গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ মহামারীকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেডরস আধানম গেব্রিয়াসিস। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এটি ইতোমধ্যে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি প্রদেশ এবং ৫৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৪,৪৪৯ জন আক্রান্ত এবং ২,০৬১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমণের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ইতুরিতে কেন্দ্রীভূত। বিশেষ করে বুনিয়া, রুয়ামপারা, নিজি এবং লিটা অঞ্চলে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধানের মতে, মৃত্যুর বড় একটি অংশ চিকিৎসা কেন্দ্রের বাইরে এবং পরিচিত কন্টাক্ট লিস্টের বাইরে ঘটছে, যা সংক্রমণের অজানা পথগুলো নির্দেশ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডব্লিউএইচও এবং তাদের সহযোগীরা নজরদারি বাড়াচ্ছে। আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসার সক্ষমতা তিন গুণ বাড়িয়ে ৩,০০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ২১ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৮৮৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা এখনও সহজলভ্য নয়। তবে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে দুটি টিকা প্রথম পর্যায়ের মানব নিরাপত্তা পরীক্ষায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন টেডরস।
মহামারি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২৬৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ড. চিকওয়ে ইহেকেওয়াজুর মতে, এই প্রাদুর্ভাব ঠিক কবে শুরু হয়েছিল তা নির্ধারণ করা অসম্ভব। তবে বর্তমান অনুমান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার দুই থেকে তিন মাস আগেই এর বিস্তার শুরু হয়েছিল। ড. ইহেকেওয়াজু জানান, বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এবং এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

