যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বুধবার ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একটি বিশাল জালিয়াতি চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১,০০০-এরও বেশি চীনা নাগরিকের সাথে মার্কিন নাগরিকদের ভুয়া বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দাখিল করা ২১ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অ্যামি চেং, জিয়াও মেই চ্যান এবং গ্যাং ঝেং এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বিবাহ জালিয়াতি মামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্লাঞ্চ বলেন, এটি কোনো সাময়িক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা একটি মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। যারা আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না, তাদের জালিয়াতির মাধ্যমে সাহায্য করাই ছিল এই চক্রের উদ্দেশ্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নানা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের প্রলুব্ধ করত। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য এই বিদেশিরা প্রায় ১,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতেন। বিনিময়ে এই জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা প্রতিটি বিয়ের আয়োজনে প্রায় ৫,০০০ ডলার কমিশন পেতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই জালিয়াতি চক্রটি তাদের কার্যক্রম নিউ ইয়র্ক ছাড়াও কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভানিয়া, কেনটাকি, টেনিসি, জর্জিয়া এবং ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি ভানুয়াতু এবং চীনেও তাদের তৎপরতা ছিল।
অভিযোগপত্রে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে, যা আসামিরা অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাক পরে বিয়ের নাটক করা হতো, যেখানে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হতো যাতে সবকিছুকে বৈধ বলে মনে হয়।

