সেলিব্রিটি ব্লগার পেরেজ হিলটনের বোন বারবারা লাভান্দেইরা তার ভাইয়ের সেই ভয়াবহ মানসিক সংকটের দিনটির বিবরণ দিয়েছেন, যখন তিনি একটি টিকটক লাইভস্ট্রিমে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন। ৪৮ বছর বয়সী এই ব্লগারের আসল নাম মারিও আরমান্ডো লাভান্দেইরা জুনিয়র। গত ৪ আগস্ট মিয়ামিতে তার নিজের বাড়িতে এই ঘটনার পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মানসিক পরীক্ষার জন্য তাকে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পেইজ সিক্স-এর সাথে ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পেরেজের ৪২ বছর বয়সী ছোট বোন বারবারা লাভান্দেইরা সেই দিনটিকে তাদের পরিবারের জন্য অন্যতম একটি অন্ধকার দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। বারবারা জানান, সেদিন বিকেলে মারিও তার শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে লক করে রেখেছিলেন, যা সাধারণত তিনি কখনই করতেন না। বারবারা দরজায় নক করলে মারিও জানান যে তিনি ঠিক আছেন, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর ছিল খুবই অস্পষ্ট। এরপর বারবার ডাকলেও মারিও আর কোনো সাড়া দেননি। ফোনে চেষ্টা করেও কোনো উত্তর না পেয়ে বারবারার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
এরপর বারবারা দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং দেখতে পান মারিও বাথরুমের দরজা লক করে রেখেছেন। সেখানেও বারবার নক করার পর কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাথরুমের লক খোলেন। বারবারা বলেন, "আমি দরজা খোলার সাথে সাথেই আমার দুঃস্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। মারিও শাওয়ারের সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার শরীর কেটে রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তার হাতে একটি বক্স কাটার ছিল।" ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি অসত্যায়িত ভিডিওর তথ্যের সাথে বারবারার এই বিবরণের মিল রয়েছে, যেখানে পেরেজকে রক্তাক্ত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
পরিস্থিতি দেখে বারবারা দ্রুত পেরেজের তিন সন্তান—মারিও (১৩), মিয়া (১১) এবং মাইতে (৮)-কে নিয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে দৌড় দেন। সৌভাগ্যবশত সে সময় তাদের মা বাড়িতে ছিলেন না। সন্তানদের গাড়িতে নিরাপদ রাখার পরপরই তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং এক প্রতিবেশীকে ডেকে বাচ্চাদের সেখান থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বারবারা বলেন, "আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সে সময় আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছিল আমি অন্য কারো দিকে তাকিয়ে আছি। এক সেকেন্ড পরেই সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।"
পরবর্তীতে জানা যায়, ফ্লোরিডার 'বেকার অ্যাক্ট'-এর অধীনে পেরেজকে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য তাকে অনিচ্ছাকৃতভাবে হেফাজতে নেওয়া যায়। পেরেজের পরিবার জানিয়েছে, তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এদিকে এই ঘটনার পর গত ৭ আগস্ট পেরেজের মা তেরেসিতা লাভান্দেইরা সন্তানদের সাময়িক হেফাজত চেয়ে মিয়ামির পারিবারিক আদালতে আবেদন করেছেন। তার আইনজীবী নাটালি এফ. গুয়েরা-ভালদেস জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।

