ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে ‘অপারেশন বেবিলিফ্ট’-এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় দত্তক নেওয়া এক নারী দীর্ঘ ৪৯ বছর পর জানতে পেরেছেন যে তার এক যমজ ভাই রয়েছে। ব্রিসবেনে বসবাসকারী সেই ভাইয়ের সাথে তার আবেগঘন পুনর্মিলনও হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর নিজের রক্ত সম্পর্কের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ, অবিশ্বাস আর চরম বিস্ময় এখন তাকে তাড়া করে ফিরছে। কীভাবে এবং কেন তারা শৈশবেই আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখন তার মনে হাজারো প্রশ্ন।
১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ সময়ে হাজার হাজার অনাথ শিশুকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে অ্যাডিলেডের এক দম্পতি একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এপ্রিল মাসে একটি জুতার বাক্সে করে মাত্র কয়েক মাস বয়সী ওই কন্যাসন্তানকে অ্যাডিলেডে আনা হয়। শিশুটি এতটাই ছোট ছিল যে তার নাভি তখনও কাটা হয়নি। তার নথিপত্রে নাম লেখা ছিল ‘লে থি হা’ এবং জন্ম মাস জানুয়ারি উল্লেখ থাকলেও, উদ্ধার অভিযানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে তার আসল পরিচয় জানার কোনো উপায় ছিল না।
দত্তক নেওয়া ওই নারীর বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তা সত্ত্বেও এক বড় বোন (যাকে ৫ বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়েছিল) এবং তিন ভাইয়ের সাথে একটি সুখী শৈশব কাটান তিনি। শৈশবে নিজের দত্তক হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার মনে কোনো কৌতূহল ছিল না। তবে কৈশোরে তাকে বর্ণবাদের শিকার হতে হয়। নিজের এশীয় পরিচয় লুকাতে তিনি চুলে রঙ করেন এবং শরীরে প্রচুর ট্যাটু আঁকান। ১৯৯৫ সালে নিজের প্রথম সন্তান জেডের জন্মের পর তার মধ্যে প্রথম নিজের রক্তের সম্পর্কের অনুভূতি জাগ্রত হয়। এরপর তার আরও এক মেয়ে ও দুই ছেলে হয়।
নিজের শিকড়ের সন্ধানে ২০০৪ সালে মায়ের সাথে প্রথমবার ভিয়েতনামে যান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘অপারেশন বেবিলিফ্ট’-এর মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা ভিয়েতনামে একত্রিত হন। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অংশ নেন। পরীক্ষার ফলাফলে ১২ জন কাজিনের সন্ধান মিললেও তারা যোগাযোগে কোনো আগ্রহ দেখাননি।
অবশেষে ৪৯ বছর বয়সে এসে তিনি জানতে পারেন যে তার এক যমজ ভাই রয়েছে, যে ব্রিসবেনে থাকে। ক্লেয়ার নামের এক ব্যক্তির সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত নভেম্বরে তাদের ফোনে প্রথম কথা হয়। আড়াই ঘণ্টার সেই ফোনালাপে তিনিই প্রথম তার ভাইকে জানান যে তারা যমজ, যা তার ভাইয়ের কাছেও ছিল এক অবিশ্বাস্য বিষয়। এর দুই মাস পর তাদের সরাসরি দেখা হয় এবং দীর্ঘ সময় পর দুই ভাই-বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদেন। পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের যোগাযোগ কিছুটা কমে গেলেও তার ভাইয়ের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরো বিষয়টি মানসিকভাবে গুছিয়ে নিতে তার ভাইয়ের কিছুটা সময় লাগছে।

