২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বিমান হামলাটি চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার কর্মকর্তারা একে এ বছরের "বৃহত্তম" হামলা বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনীয় এই হামলায় রাশিয়ায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পাল্টা হামলায় আরও অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, হামলায় মোট ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০০টি ড্রোনই রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর একে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই হামলায় মস্কো থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলিডিনোতে অবস্থিত রুশ অনলাইন রিটেইলার 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর একটি বিশাল গুদামে আঘাত হানে। হামলার পর গুদামটিতে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, এই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আমাজনের রুশ সংস্করণ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের এই গুদামটি গত জুলাই থেকে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। কিয়েভ এর আগে জানিয়েছিল, রুশ সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত করতে তারা এসব লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, সেখানে রাতভর হামলায় পাঁচজন মারা গেছেন। এছাড়া ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চল এবং মস্কোতেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর চারবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রুশ হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রাশিয়া দাবি করেছে, শনিবার রাতে কিয়েভে তাদের হামলায় ইউক্রেনীয় 'ফ্লেমিঙ্গো' ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি ফায়ারপয়েন্ট স্থাপনা এবং ড্রোন তৈরির কারখানা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে রুশ হামলায় কিয়েভের পোচাইনা এলাকার একটি বইয়ের বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে আগুনে পুড়ে যাওয়া বই মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ৬৯ বছর বয়সী ভ্যালেন্টিনা, যার স্বামীর ওই বাজারে একটি বইয়ের দোকান ছিল, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিবিসিকে বলেন, "রাস্তায় পড়ে থাকা এই বইগুলো আমার স্বামীর দোকানের। আমি এগুলো দেখেই চিনতে পেরেছি। কেউ কখনো ভাবে না যে নিজের সাথে এমন কিছু ঘটবে।" ৪২ বছর বয়সী ভিনাইল রেকর্ড দোকানের মালিক লুবা জানান, তার প্রায় ৫ লাখ রিভনিয়ার (প্রায় ৮,২৬২ পাউন্ড) মালামাল নষ্ট হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই ব্যবসাটি ছিল আমার সন্তানের মতো। ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনেক ভিনাইল রেকর্ড ছিল বিরল ও অপূরণীয়। আমি চাই পৃথিবী থেকে রাশিয়া নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক।"
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের ১৩টি অঞ্চল রুশ হামলার শিকার হয়েছে। রাশিয়া এই সপ্তাহে ১,৫৫০টিরও বেশি ড্রোন, প্রায় ১,৫৬০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তিনি বলেন, "রুশরা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যেখানেই পৌঁছাতে পারছে, সেখানেই বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করছে।"
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে স্থলযুদ্ধে কোনো পক্ষই বড় কোনো সুবিধা করতে না পারায়, যুদ্ধটি এখন মূলত আকাশযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের যুদ্ধক্ষমতা দুর্বল করতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

