কেএফএফ হেলথ নিউজের ১৭ আগস্ট, ২০২৬ তারিখের ৫:০০ এএম ইডিটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিশু টিকাকরণের হার কমানোর জন্য একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। তিনি অটিজম কেস বৃদ্ধির জন্য প্রকাশ্যে টিকাকে দায়ী করছেন, যদিও তার প্রশাসনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এখনও পর্যন্ত টিকাকরণের সাথে অটিজমের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই আদেশে সরাসরি অটিজমের উল্লেখ না থাকলেও, টিকাকরণের সুপারিশ সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ৯০ দিনেরও কম সময় আগে এই নির্দেশনা আসায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ল্যারি বাকশোন এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেনেডি এবং তার অনুসারীরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অটিজমের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি গোপন ও ব্যয়বহুল গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছেন। কোয়ালিশন অফ অটিজম সায়েন্টিস্টস-এর প্রধান হেলেন টেগার-ফ্লুসবার্গ এটিকে ১৯৪০-এর দশকের ম্যানহাটান প্রজেক্টের সাথে তুলনা করে অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও গোপনীয় একটি প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (HHS) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট তাদের জানুয়ারির ঘোষণার ভিত্তিতেই টিকাকরণের সময়সূচী পুনর্মূল্যায়ন করছেন। আগস্ট ২০২৫ সালে ট্রাম্প অটিজমের কারণ খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে, কেনেডির নেতৃত্বাধীন এই গবেষণা কার্যক্রমে অটিজম বিশেষজ্ঞ বা ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থার পেশাদার বিজ্ঞানীদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। অটিজম সোসাইটির পাবলিক পলিসি ম্যানেজার ডেলান্সি অলরেড জানান, কেনেডি এই বিষয়ে পরামর্শের জন্য তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি।
কেনেডির ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইলিয়াম 'রেন' আর্চার তৃতীয় আমেরিকানদের মেডিকেল রেকর্ড সংগ্রহ করছেন। এদিকে, কেনেডি ইন্টারএজেন্সি অটিজম কোঅর্ডিনেটিং কমিটি পুনর্গঠন করেছেন, যেখানে ২১ জন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত মাসে কমিটি একটি ৩৩৬ পৃষ্ঠার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। যদিও অটিজম বৃদ্ধির পেছনে জিনগত কারণ ও পরিবেশগত প্রভাবের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে, কেনেডি তা প্রত্যাখ্যান করে অটিজমকে একটি 'প্রতিরোধযোগ্য রোগ' হিসেবে দাবি করে আসছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অটিজম গবেষণা নিয়ে কেনেডির অগ্রগতি জানতে চাইলে কেনেডি দ্রুত উত্তর দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এনআইএইচ (NIH) পরিচালক জে বট্টাচার্য স্বীকার করেছেন যে, অটিজম বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। কেনেডির দাবিগুলোর অনেকগুলোই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কেনেডি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, তার হাতে এখনও কোনো চূড়ান্ত ফলাফল নেই এবং তিনি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন।

