রাশিয়ার বিশিষ্ট যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির পস্কোভ শহরের একটি আদালত। ৬৩ বছর বয়সী এই নেতাকে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে অবমাননা এবং তাদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সাজা ঘোষণার পর শ্লোসবার্গ এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের একমাত্র কাজ ছিল তার রাজনৈতিক, জনসচেতনতামূলক এবং নাগরিক অবস্থানের জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া। তার রাজনৈতিক দল ইয়ারবলোকো জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
পস্কোভের আদালত সোমবার এই রায় প্রদান করে। প্রসিকিউশন তার জন্য ১২ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিল। শ্লোসবার্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য থেকে এই মামলার সূত্রপাত হয়। শুনানির সমাপনী বক্তব্যে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে একটি তদন্তের অনুকরণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বিচারক বারবার তাকে বাধা দেন।
এই রায়ের কয়েক মিনিট আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিষয়ে ইয়ারবলোকো দলের আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ইয়ারবলোকোই একমাত্র নিবন্ধিত দল যারা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ায় যেকোনো ধরনের বিরোধী মত দমন করা হয়েছে। যুদ্ধের সময়কার সেন্সরশিপ আইনের আওতায় জনগণের ভিন্নমত প্রকাশকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের জরিমানা বা দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে।
ইয়ারবলোকো দলকে নির্বাচনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দলটি প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলনকে সমর্থন করে, যাকে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে ইয়ারবলোকো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য ১০টি দলই ইউক্রেন যুদ্ধের সমর্থক।

