করোনা মহামারির সময় সরকারি তথ্য গোপনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (NIAID)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. ডেভিড মোরেন্স। আদালতে দোষ স্বীকার করে মোরেন্স জানিয়েছেন, তিনি সরকারি রেকর্ড লুকাতে এবং তথ্য অধিকার আইন (FOIA) এড়াতে তাঁর ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট পিটার ডাসজাকসহ অন্য সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।
মোরেন্সের আইনজীবী টিম বেলেভেটস জানান, আজ দোষ স্বীকার করার মাধ্যমে ড. মোরেন্স তাঁর কাজের দায় নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবেন। এনআইএআইডি মূলত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (NIH)-এর একটি অংশ।
সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, মোরেন্স এই ষড়যন্ত্রে দুজন সহযোগীর সাথে কাজ করেছিলেন। প্রথম সহযোগী (কো-কনস্পিরেটর ১) হলেন নিউইয়র্কভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থার প্রধান, যা ২০১৪ সালে "আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য রিস্ক অব ব্যাট করোনাভাইরাস ইমার্জেন্স" শীর্ষক একটি সরকারি অনুদান পেয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে জানা যায়, এই সংস্থাটি হলো 'ইকোহেলথ অ্যালায়েন্স' এবং এর প্রধান হলেন পিটার ডাসজাক। চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এই অনুদানের একটি অংশ পেয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস উহান ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে এনআইএইচ এই অনুদান বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয় সহযোগী ছিলেন একজন চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, যিনি সরকারি অনুদান পাওয়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মোরেন্স এবং ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের মধ্যে হওয়া যোগাযোগের তথ্য চেয়ে বেশ কয়েকটি তথ্য অধিকার (FOIA) আবেদন জমা পড়েছিল। দোষ স্বীকারোক্তিতে মোরেন্স জানান, সরকারি নজরদারি এড়াতে এবং তথ্য লুকাতে তাঁরা অফিশিয়াল এনআইএইচ অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে মোরেন্সের ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোভিড-১৯-এর উৎস ও বাতিল হওয়া অনুদান নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছিলেন।
এছাড়া মোরেন্স অবৈধ উপহার বা উপঢৌকন গ্রহণের ষড়যন্ত্রের কথাও স্বীকার করেছেন। ২০২০ সালের জুনে নেপথ্যে বিভিন্ন "সহযোগিতা" করার পুরস্কারস্বরূপ পিটার ডাসজাকের কাছ থেকে দুই বোতল ওয়াইন উপহার পেয়েছিলেন মোরেন্স, যা মেরিল্যান্ডে তাঁর বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ডাসজাক মোরেন্সকে মিশেলিন-স্টার রেস্তোরাঁয় খাওয়ানোর মতো অন্যান্য আকর্ষণীয় প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড মহামারির উৎস এবং তৎকালীন শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. অ্যান্টনি ফাউসির ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানদের তদন্তের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে ফাউসি ও মোরেন্স দুজনেই কংগ্রেসের সাবকমিটির মুখোমুখি হন। সে সময় ফাউসি মোরেন্সের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন যে মোরেন্স নীতি নির্ধারণী বিষয়ে তাঁর উপদেষ্টা ছিলেন না। ফাউসি আরও স্বীকার করেছিলেন যে মোরেন্সের কর্মকাণ্ড ভুল ছিল এবং তা সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তবে ফাউসি নিজে অফিশিয়াল কাজে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সম্প্রতি ফাউসির কিছু টেক্সট মেসেজ ও ডায়েরির পাতা প্রকাশ করেছে রিপাবলিকানরা। গত মাসে সিনেটের কমিটির শুনানিতে হাজির হয়ে ফাউসি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী (ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট) অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার খাটান এবং সিনেটরদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে চলতি মাসের শুরুতে সিনেট প্যানেল ফাউসিকে 'কংগ্রেস অবমাননা'র দায়ে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দেয় এবং বিষয়টি বিচার বিভাগে পাঠায়।
August 18, 2026 / 4:03 PM EDT / CBS News

