মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরেই তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। ১৯ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কিমের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করার বিষয়ে আগের মেয়াদের চাপ পুনরায় প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প কিমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, কিমের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক একটি ইতিবাচক দিক। তবে কিমের কাছে থাকা ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এগুলো তৈরি হওয়া উচিত ছিল না। ট্রাম্পের দাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে এমনটা ঘটতে দিতেন না।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন সম্মেলনে এই বৈঠকের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প, যার মধ্যে ২০১৯ সালে কোরীয় উপদ্বীপের অসামরিক অঞ্চলে ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়ার সীমানা অতিক্রম করার ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য ছিল।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। জুন মাসে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্কলন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত ৬০টি ওয়ারহেড তৈরি করেছে এবং অন্তত আরও ৩০টি তৈরির মতো ফিসাইল উপাদান তাদের হাতে রয়েছে।
কিমের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতির পাশাপাশি ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ১৮ আগস্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন ও দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ১১ দিন থেকে কমিয়ে ৫ দিনে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য যে, বিগত আলোচনার সময় উত্তর কোরিয়া এই মহড়াগুলো সীমিত করার দাবি জানিয়েছিল।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প কিম জং উনের প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলেন, তিনি কিমকে খুব ভালো চেনেন এবং সঠিক নেতৃত্ব থাকলে কিমের পরিস্থিতি ভালো থাকবে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, অযোগ্য নেতৃত্বের অধীনে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

