হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। অলি রবিনসন ও জশ টাংয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ২ উইকেটে ১১২ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। জো রুটের টেস্ট অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই বল হাতে দাপট দেখালেন ইংলিশ পেসাররা। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের দুই পেসার একই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম কোনো ইংলিশ পেস জুটির এমন অনন্য রেকর্ড।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। মেঘলা আবহাওয়ার ফায়দা তুলতে রবিনসন ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন। তার ইন-সুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার আজান আওয়াইস, রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। অন্যপ্রান্তে জোফরা আর্চার টানা দুটি মেডেন ওভার দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। শুরুর ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে ৯১ রানের জুটি গড়েন আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। তবে এই জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৭৪ রানে শেষ ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
ম্যাচের প্রথম সেশনে বৃষ্টির কারণে খেলা প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেওয়া হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলে বাড়তি ৩০ মিনিট সময় যোগ করা হয়। শফিক ও ইমামের প্রতিরোধ ভাঙেন জশ টাং। তার অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের ফুল লেংথ ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ দেন ৪২ রান করা ইমাম। এরপর সৌদ শাকিল মাত্র ৫ রান করে রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নেওয়ার বিষয়ে শফিকের সাথে আলোচনা করতে গিয়ে সময় পার করে ফেলেন শাকিল, অথচ পরে প্রযুক্তিতে দেখা যায় বলটি স্ট্যাম্পের ওপর দিয়ে চলে যেত।
দারুণ খেলতে থাকা শফিক হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর রবিনসনের একটি চমৎকার সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হন। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৬১ রান। ইনজুরিতে পড়া বাবর আজমের পরিবর্তে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আগা ২১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও টাংয়ের বলে বোল্ড হন। চা-বিরতির ঠিক আগে আলী উসমানকে প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাং। ১৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ রিজওয়ান ১২ রান করে টাংয়ের চতুর্থ শিকার হন। এরপর খুররাম শাহজাদকে (১৪) আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন রবিনসন। শেষ উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে বোল্ড করে রবিনসনের সমান ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন টাং। ৪৬ রানে ৫ উইকেট নেন টাং এবং ৫১ রানে ৫ উইকেট নেন রবিনসন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ইংল্যান্ড। দলীয় ৪৮ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার। বেন ডাকেট ১৫ রান করে আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন। ৩১ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে মোহাম্মদ আলীর বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন এমিলিও গে, তার ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার। তবে তৃতীয় উইকেটে জর্ডান কক্স ও জো রুট হাল ধরেন। এই জুটি অবিচ্ছিন্ন ৬৪ রান যোগ করে দলের স্কোর ১০০ পার করান। দিনশেষে রুট ৩৭ এবং কক্স ২৩ রানে অপরাজিত আছেন। ইংল্যান্ড এখন পাকিস্তানের চেয়ে মাত্র ৫৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

