লেবানন প্রথমবারের মতো বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের একজন সাবেক জেনারেলকে সিরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হয়েছে, যা আসাদ সরকারের পতনের পর এ ধরনের প্রথম ঘটনা।
৬৭ বছর বয়সী মেজর জেনারেল আদেল ইসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্ক দখল করার পর আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং এর মাধ্যমেই সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। এই যুদ্ধে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে লেবানন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আসাদের পতনের পর সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননে পালিয়ে যাওয়া সাবেক নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আদেল ইসা ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দেইর ইজ্জোরে স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া নির্যাতন এবং গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগ্রাসনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের সময় আদেল ইসা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে লেবাননের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন।
১৯৫১ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় তাকে প্রত্যর্পণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেল ইসার মামলাটি এখন দামেস্কের একজন রেফারেল বিচারকের কাছে পাঠানো হবে, যিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হবে কি না।
গত জানুয়ারি মাসে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন লেবাননের কর্মকর্তাদের কাছে ২০০ জনেরও বেশি সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি তালিকা হস্তান্তর করে, যাদের তারা বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আসাদ আমলের কয়েক ডজন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে。
চলতি মাসের শুরুর দিকে দামেস্কের একটি আদালত গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার ভাই মাহের আল-আসাদকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শারাআ-এর বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর তারা মস্কোতে পালিয়ে যান। এছাড়া তাদের দুই খালাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদ এবং আতিফ নাজিবকে সিরিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

