কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্ক ২২ আগস্ট শনিবার মধ্যরাতের ঠিক পরেই কার্যকর হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই এই পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। ২১ আগস্টের শেষ দিকে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দোষারোপ করে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২১ আগস্ট রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছেন এবং কানাডিয়ান আলোচকদের ওটাওয়াতে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। কার্নি জানিয়েছেন, কানাডা 'ডলারের বিপরীতে ডলার' হিসেবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে, যা আগামী মাসে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি ২২ আগস্ট এক ভাষণে উল্লেখ করেন।
নতুন এই শুল্ক কানাডার মার্কিন রপ্তানির ৫ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। এর আওতায় ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, হকি স্টিক এবং সিমেন্টের মতো পণ্যগুলো রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এই শুল্কগুলো মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়, যা আগে কানাডার অনেক পণ্যকে মার্কিন শুল্ক থেকে রক্ষা করেছিল।
গত মাসে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কানাডার বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে মার্কিন বাণিজ্যের ওপর যে বোঝা ও অসুবিধা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে চান। এর আগে কানাডা থেকে আসা দাবানলের ধোঁয়ার কারণেও তিনি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও অটোমোবাইল রপ্তানির ওপর কানাডার বাণিজ্য চর্চাই এই পদক্ষেপের মূল কারণ। গত এক বছরে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে অ্যালকোহল কেনা বন্ধ রেখেছে। এছাড়া কানাডা মার্কিন অটোমোবাইলের ওপর শুল্ক এবং পনিরের ওপর কঠোর কোটা আরোপ করেছে বলেও কর্মকর্তারা জানান।
ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার আর কোনো আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই। ২২ আগস্ট ওটাওয়ার পার্লামেন্ট ভবনে দেওয়া ভাষণে কার্নি জানান, কানাডার পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কার্নি বলেন, 'আমরা তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারি না এবং তারা যা চেয়েছে তা আমরা দেব না।'
তিনি আরও বলেন, কানাডিয়ানদের ওপর খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি তিনি 'অনিচ্ছাসত্ত্বেও' নিয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী যে এটি কানাডার বৃহত্তর স্বার্থেই করা হয়েছে। কার্নি বলেন, 'ওয়াশিংটন থেকে আসা এই ঝড় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমরা কানাডাকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশে বাণিজ্য সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করার মাধ্যমে একটি নতুন পথ তৈরি করতে পারি।'
