শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিনে ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের রণকৌশল কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিল বলে মনে করছেন ব্যাটিং কিংবদন্তি চেতেশ্বর পুজারা। তাঁর মতে, কেশরা নুয়ান্থার মতো লোয়ার অর্ডার ব্যাটারের বিপক্ষে গিলের উচিত ছিল আরও আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানো। দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কা দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি ড্র করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের পঞ্চম দিনে ৬ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত তারা ১৫৪ ওভারে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। পুরো দিনে ভারতীয় বোলাররা মাত্র তিনটি উইকেট নিতে সক্ষম হন।
ক্রিকইনফোতে এক আলোচনায় গিলের অধিনায়কত্ব নিয়ে কিছুটা সমালোচনা করে পুজারা বলেন, "ও (গিল) কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিল। ও খুব বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়নি, তাই ওর অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। আমি নিশ্চিত ও নিজের ভুল থেকে শিখবে। আপনাকে আক্রমণ করতে হবে। মানভ সুথার বা রবীন্দ্র জাদেজা যখন বল করছিল, তখন কেশরার মতো ব্যাটারের জন্য সিলি পয়েন্ট এবং গালি রাখা উচিত ছিল। যখন আপনি খেলায় এগিয়ে আছেন, তখন সেই চাপটা বজায় রাখতে হবে। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা নয়, ভারতই এগিয়ে ছিল।"
ম্যাচের পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা (২৬৪ বলে অপরাজিত ১৩৩) এবং কেশরা নুয়ান্থা (১৫০ বলে ৪৬) সপ্তম উইকেটে ১১২ রানের এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা ভারতের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ভারতের ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট মহলে নানা আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন ফলো-অন করানোটা সফরকারীদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এই বিষয়ে পুজারা জানান, তিনি নিজে হলে ফলো-অন করাতেন না। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে এই সিদ্ধান্তের খুব বেশি সমালোচনা করাও কঠিন।
সাবেক এই ভারতীয় ৩ নম্বর ব্যাটার বলেন, "আমার মনে হয় ভারত যদি ফলো-অন না করাত, তবে তাদের ম্যাচটি জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকত। শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় আপনি ৯০ ওভার বোলিং করেছেন। এরপর আবার পরের ৮০-৯০ ওভারের মধ্যে ১০ উইকেট নেওয়ার চাপ মাথায় নিয়ে মাঠে নামা কঠিন। তবে আবহাওয়া ভালো ছিল না, তাই ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করা যায় না।"
দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে শ্রীলঙ্কাকে এই স্মরণীয় ড্র এনে দেওয়া সোনাল দিনুশা ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন।

