উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলীয় শহর কিরেনিয়া থেকে যাত্রা শুরুর পর একটি ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ডজনখানেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই অঞ্চলের তুরস্ক-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের প্রধান উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে ২৫৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
উস্তেল জানান, শনিবার তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরিটির যাত্রা বিলম্বিত হয়েছিল। তিনি তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি-কে বলেন, সমুদ্রের দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটি পানি নিতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন প্রথম ঢেউটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং তুর্কি কর্তৃপক্ষ এতে সহায়তা করছে। হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সৈকতে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকৃতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহন মন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, এখন পর্যন্ত ১০০ জনকে নিরাপদে তীরে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন উনাল উস্তেল। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই বিপর্যয়ের পেছনে কোনো গাফিলতি থাকলে তা অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের অংশ হিসেবে জাহাজটির ক্যাপ্টেনসহ আটজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। মেরিন ট্রাফিক অনুযায়ী, 'ফিলো জেট' নামের ৪০ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার চওড়া এই উচ্চগতির ফেরিটি তুরস্কের পতাকাবাহী ছিল। ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'ফিলো দেনিজচিলিক' এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং যাত্রীদের স্বজনদের তথ্যের জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে। তবে যাত্রীদের জাতীয়তা বা আহতদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

