উত্তর সাইপ্রাসের কিরেনিয়া উপকূলের কাছে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে বন্দর কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তুর্কি রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের (টিআরএনসি) প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার এই বিপর্যয়ের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা ধামাচাপা দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী উস্তেল বলেন, 'যেসব বন্দর কর্মকর্তা জাহাজটির যাত্রার অনুমতি দিয়েছিলেন, তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।' নিখোঁজ ১৮ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করাকে সরকার বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য তুরস্কের নৌবাহিনীর একটি আন্ডারওয়াটার অফেন্স (এসএটি) টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, ফেরিডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৪ জনকে কিরেনিয়া জেলা আদালতে হাজির করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছে ফেরির ক্যাপ্টেন, সাতজন ক্রু সদস্য, কোম্পানির একজন কর্মচারী এবং দুইজন বন্দর কর্মকর্তা। এছাড়া আদালতের নির্দেশে আরও দুজনকে খুঁজছে পুলিশ।
আদালতে ক্যাপ্টেন ও ক্রু সদস্যরা দাবি করেছেন, উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ফেরির সামনের অংশ ভেঙে গিয়ে সেটি উল্টে যায়। তারা দাবি করেন, যাত্রা শুরুর সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল এবং জাহাজটির প্রয়োজনীয় নেভিগেশনাল ও প্রশাসনিক সনদপত্র ছিল। আদালত পুলিশকে যাত্রীদের ধারণ করা ভিডিও এবং ফেরির দুর্ঘটনা ও মেরামতের ইতিহাস খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারক ক্যাপ্টেন, ফার্স্ট অফিসার, কোম্পানির একজন কর্মচারীসহ নয়জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপর পাঁচজনকে, যার মধ্যে দুইজন বন্দর কর্মকর্তা রয়েছেন, বিচারের আগ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরও নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
দুর্ঘটনার সময় 'ফিলো জেট' নামের ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রুসহ মোট ২৬৭ জন আরোহী ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আদালতের বাইরে স্বজনরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী উস্তেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তদন্তে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

