ম্যাসাচুসেটসের একটি আদালত ৪ সেপ্টেম্বর লিন্ডসে ক্ল্যানসির বিরুদ্ধে চলমান আলোচিত তিন সন্তান হত্যা মামলায় মিসট্রায়াল ঘোষণা করেছে। টানা সাত দিনের তীব্র পর্যালোচনার পরও ১২ সদস্যের জুরি কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক উইলিয়াম সুলিভান এই রায় দেন। এই রায়ের ফলে ক্ল্যানসির আইনি ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে লিন্ডসে ক্ল্যানসি তার তিন সন্তান—কোরা (৫), ডসন (৩) এবং ক্যালান (৮ মাস)—কে নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফলে তিনি বর্তমানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ঘটনার পর থেকে তিনি টেক্সবারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার অধীনে রয়েছেন।
বিচার চলাকালীন দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে ৮০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ক্ল্যানসির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, প্রসবোত্তর মানসিক সমস্যার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস) কারণে তিনি অপরাধের দায়ভার নেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলিরা দাবি করেন যে, ক্ল্যানসি পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে দূরে পাঠিয়ে সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য বিচারক ২৯ সেপ্টেম্বর একটি স্ট্যাটাস এবং ট্রায়াল অ্যাসাইনমেন্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন। প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজ জানিয়েছেন, তিনি আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন এবং কোনোভাবেই জনমতের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। সরকারি কৌঁসুলিরা চাইলে মামলাটি নতুন করে শুরু করতে পারেন অথবা ক্ল্যানসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কমিয়ে কোনো সমঝোতার (plea agreement) পথে হাঁটতে পারেন।
ক্ল্যানসির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন যে প্রসিকিউশন নতুন জুরির সামনে মামলাটি পুনরায় উত্থাপন করবে। মিসট্রায়াল ঘোষণার আগে, একটি জুরি সদস্যের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক উঠলে রেডিংটন ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্টে জরুরি আপিলের আবেদন করেছিলেন, তবে উচ্চ আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। এই মামলাটি জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং প্রসবোত্তর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
