পূর্ব কঙ্গোর খনিগুলোতে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভয়াবহ নির্যাতন ও বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মতো যুদ্ধাপরাধ ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিদ্রোহীরা জোরপূর্বক খনি নিয়ন্ত্রণ করে সেখান থেকে মূল্যবান খনিজ সম্পদ পার্শ্ববর্তী দেশ রুয়ান্ডায় পাচার করছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ওপর ভিত্তি করে ২৬ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর কিভুর রুবায়া এলাকার কোলটান খনি এবং দক্ষিণ কিভুর লোমেরা এলাকার স্বর্ণ খনিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার দেওয়া ১৬ জন খনি শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিক জানিয়েছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা তাদের নিয়ন্ত্রিত খনির নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবায়া ও লোমেরা খনিতে ১৮ জন খনি শ্রমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে পিটিয়ে, দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ছয়জনকে অপহরণের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বিভিন্ন অপরাধ যেমন—বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক শ্রম এবং লুটতরাজের সঙ্গে জড়িত।
বিশ্বের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য কঙ্গোর উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, গত বছর বিশ্বের মোট ট্যানটালাম উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি এসেছে কঙ্গো থেকে, যার প্রায় ১৫ শতাংশই সরবরাহ করেছে রুবায়া খনি। এছাড়াও দেশটি গত বছর ২৮ টনের বেশি স্বর্ণ রপ্তানি করেছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কঙ্গো সরকার অতীতেও রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে কঙ্গোর খনিজ সম্পদ থেকে মুনাফা অর্জনের অভিযোগ তুলেছে। যদিও রুয়ান্ডা বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কঙ্গোর এই খনি অঞ্চলগুলোতে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রুবায়ার একটি খনিতে চলতি বছরের মার্চ ও জানুয়ারিতে আলাদা দুটি দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লোমেরা স্বর্ণ খনিতেও গত বছর ধসের ঘটনা ঘটে, যাতে অনেক শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন।

