সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার পরেও অনেকের মনে অজানাই কোনো রোগ লুকিয়ে থাকার ভয় কাজ করে। এই ভয় থেকেই অনেকে এখন ফুল-বডি এমআরআই স্ক্যানের মতো আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। ১ আগস্ট নিউরোসায়েন্টিস্ট, অধ্যাপক এবং প্রভাবশালী পডকাস্টার অ্যান্ড্রু হুবারম্যান এই পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
হুবারম্যান তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, পুরো শরীরের এমআরআই পরীক্ষাটি বিতর্কিত হওয়ার কারণ স্পষ্ট। এটি ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুল রিপোর্ট বা ফলস পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে তিনি দাবি করেন, তার অনেক নিউরোসার্জন বন্ধু তাকে জানিয়েছেন যে, কৌতূহলবশত এমআরআই করতে এসে অনেক রোগী এমন সব সমস্যার কথা জানতে পারেন, যার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার জীবন বাঁচিয়েছে।
হুবারম্যানের এই মন্তব্যের পর চিকিৎসকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউসিএলএ-এর ডা. সঞ্জয় এস. ধাল হুবারম্যানের দাবিকে সরাসরি 'হগওয়াশ' বা বাজে কথা বলে অভিহিত করেছেন। ইউসিএসএফ-এর নিউরোসার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. অ্যান্থনি ডিজিওর্জিও জানান, তিনি তার ক্যারিয়ারে এমন কোনো ঘটনার কথা শোনেননি যেখানে ফুল-বডি এমআরআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া কোনো লক্ষণহীন ক্ষত বা 'লাইফ সেভিং' লেশন অপারেশন করে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
ডা. ডিজিওর্জিও আরও বলেন, উপসর্গহীন কোনো কিছুর অস্ত্রোপচার করার মতো ঘটনা খুব কমই ঘটে। শুধুমাত্র মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের মতো ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রেও চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তিনি মনে করেন, ফুল-বডি এমআরআই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না, তবে কেউ নিজ খরচে এটি করতে চাইলে তা করতে পারেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পরীক্ষায় অনেক সময় অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়লেও তা প্রকৃত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ উপসর্গহীন রোগীর রিপোর্টে কোনো না কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ১.৮ শতাংশ ক্ষেত্রে তা ক্যান্সার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
ওয়াশিংটন স্কুল অফ মেডিসিনের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মঞ্জিরি দিঘে বলেন, ফুল-বডি এমআরআই এখনো ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। এটি নন-ইনভেসিভ বা সংবেদনশীল হলেও, এটি যে অতিরিক্ত রোগ নির্ণয়ের জটিলতা এড়িয়ে জীবন বাঁচাতে পারে, তার কোনো বড় পরিসরের দীর্ঘমেয়াদী প্রমাণ নেই। উচ্চ ব্যয় এবং বীমার আওতাভুক্ত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বিলাসিতা মাত্র।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অফ মেডিসিনের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফ্রান্সিস ডেং সতর্ক করে বলেন, কোনো মেডিকেল কারণ ছাড়াই সরাসরি গ্রাহকদের কাছে এই পরীক্ষা জনপ্রিয় করা হলে তা দেশের জরুরি চিকিৎসাসেবার সম্পদ নষ্ট করবে। ডা. ডিজিওর্জিওর মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের চেয়ে বর্তমানে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবার মূল সমস্যা হলো চিকিৎসার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, যা এখনো সমাধান হয়নি।

