মিশরে বিচারক সেজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারি সংস্থা থেকে বাড়ি বরাদ্দের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে এই চক্রটি অর্থ আদায় করত বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল হোতা হিসেবে রয়েছেন কায়রো ও গিজায় বসবাসরত একজন বেকার ব্যক্তি এবং একজন শিক্ষার্থী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধমূলক এই চক্র গঠনের কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, অন্যদের সহায়তায় আদালত প্রাঙ্গণে নকল দৃশ্য ধারণ করে নিজেদের বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে যখন একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, নিজেকে বিচারক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তাকে প্রতারিত করেছেন। এরপরই কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিচারকের পোশাক বা স্যাশ এবং ভুয়া বিচারিক পরিচয়পত্র জব্দ করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অভিযুক্তরা বিচারকের পোশাক পরে আদালতের ভেতরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেন। মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি আদালতে কর্মরত কয়েকজন কর্মীর সহায়তায় এই কাজ করতেন বলে স্বীকার করেছেন। দ্বিতীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারক পরিচয় দিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের কথা স্বীকার করেছেন বলে সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।
ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে আদালত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটককৃত কর্মীরা দাবি করেছেন যে, মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাদের জানিয়েছিলেন তিনি মিশরের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কোনো একটি বিভাগে কর্মরত আছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারিক ট্রায়ালের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

