মেটার ‘ওয়েলবিয়িং’ বা সুস্থতা বিষয়ক টিমের প্রাক্তন পরামর্শদাতা আর্তুরো বেজার দীর্ঘ সময় ধরে ইনস্টাগ্রামের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার ঘাটতি নিয়ে সরব হয়েছেন। নিজের কিশোরী মেয়ের অভিজ্ঞতার পর তিনি কোম্পানিটির ভেতরে থেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে সামনে আসেন। বেজারের দাবি, মার্ক জাকারবার্গ ও মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা কিশোরদের প্রতি হওয়া ক্ষতির বিষয়ে সচেতন থাকা সত্ত্বেও মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
২০২১ সালের ৫ অক্টোবর, যখন ফ্রান্সেস হগেন ইউএস সিনেটে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ফাঁস নিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই দিনই আর্তুরো বেজার জাকারবার্গ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে একটি ইমেইল পাঠান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ১৩-১৫ বছর বয়সী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ২৪.৪% অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবের শিকার এবং ২১.৮% গত সাত দিনে বুলিং বা হয়রানির শিকার হয়েছে। তার তথ্যানুযায়ী, ৫১% ব্যবহারকারী ক্ষতিকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেও মেটার কার্যকর পদক্ষেপ ছিল নগণ্য। জাকারবার্গ সেই ইমেইলের কোনো উত্তর দেননি।
বেজারের মতে, জাকারবার্গ সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে কেবল জেতার মানসিকতায় বিশ্বাসী। তিনি স্মরণ করেন, একবার গম্ভীর আলোচনার সময় জাকারবার্গ তাকে সরাসরি বলেছিলেন, তিনি এখানে আনন্দ করতে আসেননি, বরং প্রভাব বিস্তারের জন্য কাজ করছেন। পরবর্তী সময়ে বেজার বুঝতে পারেন, কোম্পানিটি কিশোরদের আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়টি ভালোভাবেই জানত, কিন্তু সুরক্ষার চেয়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানোর হার বাড়ানোই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
২০২৩ সালে বেজার নিজেও ইউএস সিনেটে সাক্ষ্য দেন। তিনি দাবি করেন, মেটা জেনেশুনেই এমন পণ্য ডিজাইন করেছে যা কিশোরদের জন্য আসক্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক এক মামলায় মেটা ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ, স্কুল চলাকালীন নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ানোর মতো বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও মেটা কোনো ভুল করার কথা অস্বীকার করেছে, তবুও ১৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার ঝুঁকি ও আইনি চাপে তারা এই সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আর্তুরো বেজার এখন মনে করেন, স্বতন্ত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি, ঠিক যেভাবে যানবাহনের নির্গমন পরীক্ষা করা হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, জাকারবার্গ চাইলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ করে তুলতে পারতেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এখন কিছুটা পরিবর্তনের আশা দেখছেন বেজার।

