ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) প্রতি বছর আয়কর হিসেবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় বলে জানিয়েছেন বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সাধারণত এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে বিসিসিআই কর সুবিধা ভোগ করে, তবে সাইকিয়া এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ভারতের অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাগুলো সরকারি অনুদান পেলেও বিসিসিআই প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কর দেয়। ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্টের অধীনে কর ছাড় পাওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক চলছে এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে বোর্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
সাইকিয়া স্পষ্ট করেছেন যে বিসিসিআই আইনকে পাশ কাটানোর কোনো চেষ্টা করছে না। তিনি বলেন, স্পোর্টস অ্যাক্টের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং বিসিসিআই যখন এই আইনের আওতায় আসবে, তখন একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটিকে একটি মনোনীত খেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সেই বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং আসার সাথে সাথেই বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সুপ্রিম কোর্টের আলোচনার প্রেক্ষিতে বর্তমানে নতুন কিছু নেই এবং আগামী ২৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
এজিএম-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের জন্য উন্নত বেতন কাঠামো এবং তাদের গ্রেড পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আম্পায়ারদের মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং নকআউটসহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। আম্পায়ারদের জন্য চারটি গ্রেড—এ, বি, সি এবং ডি রাখা হয়েছে। সাইকিয়া জানান, প্রতি মৌসুম শেষে অবনমন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা থাকবে। ভালো পারফর্ম করা ১০ জন আম্পায়ার উপরের গ্রেডে উঠবেন এবং যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারবেন না, তাদের নিচের গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হবে। এটি আম্পায়ারদের সবসময় সতর্ক রাখবে, যা ক্রিকেটের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এদিকে, রাঁচি থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে বিসিসিআই। সাইকিয়া জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাঁচিতে টেস্ট হওয়ার কথা এবং হাতে আরও ছয়-সাত মাস সময় আছে। ম্যাচ সরানোর কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব বোর্ডের কাছে নেই। ঝাড়খণ্ড স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জেএসসিএ) সচিব সৌরভ তিওয়ারিও নিশ্চিত করেছেন যে ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো অনুরোধ তারা করেননি। পাঁচ টেস্টের এই সিরিজটি ২১ জানুয়ারি নাগপুর থেকে শুরু হবে। এছাড়া চেন্নাই, গুয়াহাটি ও আহমেদাবাদে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
এজিএম-এর অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে আইপিএল জিসি-তে অরুণ সিং ধুমাল ও এম খাইরুল জামাল মজুমদারকে পুনর্নির্বাচিত করা, ২০২৭ সালে আইপিএলের ২০তম সংস্করণ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা এবং ২০২৮ সালে বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ। এছাড়া বিসিসিআইয়ের বয়স যাচাইকরণ নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের সহায়তা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য ইউনিটগুলোর সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

