২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ‘সেনা’ (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশগুলোতে আসন্ন চ্যালেঞ্জিং সফরগুলোকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করেছে ভারতীয় ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকরা। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ নেতৃত্ব এক বৈঠকে বসে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারতের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরই এই জরুরি পর্যালোচনামূলক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই দুটি সফরে ভারত মোট ছয়টি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি ওয়ানডে ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, "আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে যেন দল অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে, সেজন্য কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য সেরা দল গঠন করা।" এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমন গিল, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার এবং ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি বা সেন্টার অব এক্সেলেন্সের (সিওই) প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ।
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আগামী দিনের ‘সেনা’ দেশগুলোর সফর এবং পরবর্তী এফটিপি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের ব্যর্থতা স্বীকার করে দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, "আমরা ভালো করতে পারিনি, তা সবাই জানেন। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে আমরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হেরেছি এবং ওয়ানডে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছি। তাই আমরা এর পেছনের কারণগুলো জানতে চেয়েছিলাম। আমাদের নিজেদের ভুলগুলো খতিয়ে দেখতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ‘সেনা’ দেশে যাওয়ার আগে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল তৈরি করতে হবে।"
খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার ধকল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। সাইকিয়া জানান, বছরের ঠাসা সূচিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে আগামী এফটিপিতে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের এফটিপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, যারা খুব শিগগিরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বৈঠকে বসবেন। আমাদের এফটিপি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান। পাশাপাশি ‘সেনা’ দেশগুলোতে যেকোনো বড় সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রাখা হবে।"
খেলোয়াড়দের ঘন ঘন ইনজুরি ও ফিটনেস ধরে রাখার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। সাইকিয়া উদাহরণ দিয়ে বলেন, "অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার কারণে খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে পড়ছেন। ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে আমাদের ১৫ জন খেলোয়াড় ছিলেন, যার মধ্যে খেলা চলাকালীনই তিন থেকে চারজন ইনজুরিতে পড়েন। তবে আমাদের এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, এর ঠিক আগেই তারা টানা দুই মাস আইপিএল খেলেছেন। এসব বিষয় খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমান উইন্ডো এবং এফটিপির মধ্যেই কীভাবে এই পরিস্থিতি এড়ানো যায়, আমরা সেই উপায় খুঁজছি।"
ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিসিসিআই সচিব জানান, কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে তিনি নিজের ফিজিওর অধীনে কাজ করতে পারেন অথবা ব্যাঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সের (সিওই) পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। তবে ভারতীয় দলে ফেরার আগে তাকে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ ও ফিটনেস পরীক্ষা সফলভাবে পার হতে হবে। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন ইনজুরি মুক্ত রাখার সেরা উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বৈঠকগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনা করা হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলো এড়াতে অধিনায়ক ও প্রধান কোচের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক নেওয়া হয়েছে বলে জানান সাইকিয়া।

