দীর্ঘ তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে আবারও শুরু হচ্ছে ঘরোয়া লিগের উত্তেজনা। আগামী শনিবার বিকেলে সেরি এ-তে পার্মার মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিলান। এই ম্যাচের আগে দলের ফুটবলারদের ফিটনেস, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বিভিন্ন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলেছেন ইন্টারের প্রধান কোচ ক্রিস্টিয়ান কিভু। শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষে শুক্রবারই প্রথম পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে পাঁচ ম্যাচ শেষে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রোমা ও লাৎসিওর সঙ্গে যৌথভাবে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইন্টার। আন্তর্জাতিক বিরতিতে দলের ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার নিজ নিজ দেশের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে কিভু বলেন, "তিন সপ্তাহে আমার জন্য খুব বেশি কিছু পরিবর্তন হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের ছাড়া অনুশীলন করা এবং তাদের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টি ভিন্ন ছিল। যারা জাতীয় দলে খেলতে যায়, তাদের প্রতি তিন দিনে একটি করে ম্যাচ খেলতে হয়।"
খেলোয়াড়দের ধকল ও স্কোয়াডের গভীরতা পরীক্ষার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিভু বলেন, "জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়রা কত মিনিট খেলেছে, তা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। তবে এরা এমন খেলোয়াড় যারা প্রতি তিন দিনে খেলতে অভ্যস্ত। সত্যি বলতে, তারা অনুশীলনের চেয়ে খেলতেই বেশি পছন্দ করে! তবে আমাদের প্রতিপক্ষ এবং সূচির বিষয়টি বুঝতে হবে। পরবর্তী বিরতির আগে আমাদের অনেক ম্যাচ খেলতে হবে।"
গোলরক্ষক পজিশনে জোসেপ মার্তিনেজের জায়গায় ইভান প্রাভেদেলকে খেলানো হবে কি না, এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে কিভু বলেন, "আমি জানি না, আগামীকালই দেখা যাবে।" তবে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে ইন্টার মিলানে যোগ দেওয়া ডিফেন্ডার জেদ স্পেন্সের এই ম্যাচে অভিষেক হতে পারে। কিভু জানান, বিশ্বকাপ পরবর্তী ছুটি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে স্পেন্স প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। এক সপ্তাহ ধরে তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন এবং পার্মার বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে তাকে রাখা হবে।
তুরস্কের মিডফিল্ডার হাকান চিলহানোগ্লুকে নিয়ে ওঠা বিতর্কের কড়া জবাব দিয়েছেন কিভু। তুরস্কের ক্যাম্প থেকে চিলহানোগ্লু জলদি ফিরে আসলেও গত সোমবার রাতে ইতালি ও তুরস্কের ম্যাচ দেখতে না যাওয়ায় সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েন। কিভু তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, "হাকান সোমবারই ফিরে এসেছে এবং এক সপ্তাহ ধরে কোনো সমস্যা ছাড়াই দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে। সে খেলার জন্য প্রস্তুত। সোমবার সে তার সতীর্থদের খেলা দেখতে যায়নি কারণ সমস্যাটা আমার ছিল। সেদিন বিকেলে আমাদের অনুশীলন ছিল এবং আমি চেয়েছিলাম সে অনুশীলনে থাকুক। তা না হলে আমি তাকে ম্যাচ দেখার জন্য ছুটি দিতাম।"
ইন্টার মিলানের ব্যাক থ্রি থেকে ব্যাক ফোরে পরিবর্তন করার সম্ভাবনা নিয়ে কিভু স্পষ্ট করে বলেন, "চারজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেললেই যে জয় নিশ্চিত হবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই, আবার তিনজন নিয়ে খেললেও তা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলার কৌশল। আমরা একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ফুটবল খেলার জন্যই দল গড়েছি।"
আসন্ন ম্যাচে পার্মা ইন্টারের জন্য বড় বাধা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিভু মনে করিয়ে দেন যে গত মৌসুমে তার দল সেরি এ-র বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভুগলেও সহজ ম্যাচগুলোতে কখনো ভুল করেনি। তিনি বলেন, "এত বছরে আমরা শিখেছি যে কোনো প্রতিপক্ষকেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। গত বছর আমরা আমাদের পরিপক্বতা দেখিয়েছি। আমরা শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর কাছে হেরেছিলাম, কিন্তু অন্য ম্যাচগুলোতে ঢিলেমি দেইনি। এটা সচেতনতা এবং পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।"
অনেকেই ইন্টারকে ২০২৬-২৭ মৌসুমের শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করছেন এবং তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রোমা বা কোমো-কে দেখছেন। তবে কিভু এখনই এসব নিয়ে ভাবতে নারাজ। তিনি বলেন, "আমরা কেন সেই দলগুলোর কথা বলছি না যারা রোমা, কোমো, জুভেন্টাস বা মিলানকে থামাবে? অবশ্যই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে চাই, তবে ট্রফি জেতা কতটা কঠিন তা কাউকে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। টেবিলে অনেক দলেরই ১৩ পয়েন্ট রয়েছে, আবার অনেকেই ঠিক পেছনে রয়েছে। এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।"
ক্লাব ব্রুগা থেকে বাই-ব্যাক ক্লজের মাধ্যমে ইন্টার মিলানে ফিরে আসা আলেকসান্দার স্তানকোভিচের দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কিভু নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "হয়তো দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে এটা আমারই ভুল। ও যখন ছোট ছিল, তখন থেকেই আমি ওকে চিনি, যুব দলেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। ও জানে যে ও এমন এক ক্লাবে আছে যেখানে চাপ এবং প্রত্যাশা অনেক বেশি। ও কঠোর পরিশ্রম করছে এবং এই স্তরে খেলার যোগ্যতা ওর আছে।"
অন্যদিকে, পেতার সুচিচকে ইন্টারের মাঝমাঠে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন জভোনিমির বোবান। এ বিষয়ে কিভুর প্রতিক্রিয়া, "বোবান একজন মহান ব্যক্তিত্ব এবং আমি জানি তিনি কেন এই কথা বলেছেন। তবে পেতার গত মৌসুমে আমাদের হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় খেলা শীর্ষ তিন খেলোয়াড়ের একজন ছিল। বর্তমানে ওর শারীরিক কন্ডিশন কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে কোনো বিতর্ক নেই, সেখানে আমরা বিতর্ক তৈরি করতে চাই না।"
সবশেষে ফরাসি জাতীয় দলের হয়ে জিনেদিন জিদানের অধীনে লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলা অ্যান্ডি দিউফের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করেন কিভু। নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "আমি যখন মরিনহোর অধীনে খেলতাম, তখন আমিও লেফট উইং-ব্যাক বা মাঝমাঠে খেলেছি। যখন কোনো খেলোয়াড় বুঝতে পারে যে সে একটি নির্দিষ্ট পজিশনে বাঁধা নয় এবং দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় খেলতে প্রস্তুত, তখন তা দারুণ বিষয়। দিউফ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশের হয়ে ৯০ মিনিটের দুটি ম্যাচ খেলেছে। সে সেখানে খেলতে পেরে এবং এখানে থাকতে পেরে বেশ খুশি।"

