আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো তাঁর সাবেক জামাতা ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) ম্যাক মিলারকে কংগ্রেসের সদস্য থাকার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। পারিবারিক নির্যাতন ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা ম্যাক মিলারকে আক্রমণ করে সিনেটর মোরেনো বলেন, মিলারের আচরণে জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো ন্যূনতম নৈতিক চরিত্র নেই। তবে মিলার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর বার্নি মোরেনো বলেন, "নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য যদি চরিত্রের ন্যূনতম কোনো মানদণ্ড থাকে, তবে ম্যাক মিলার তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস) দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়।" তিনি আরও জানান, গত দুই বছর তাঁর পরিবারের জন্য "নরকযন্ত্রণা" ছিল। বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতে চাইলেও মিলারের "ক্রমবর্ধমান খামখেয়ালি ও বিপজ্জনক আচরণ"-এর কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। মোরেনো দাবি করেন, মিলারের "গুরুতর মানসিক চিকিৎসা" প্রয়োজন এবং তিনি তাঁর মেয়ের জন্য একটি "বিপদ"।
দ্বিতীয় মেয়াদে কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান প্রতিনিধি ম্যাক মিলার তাঁর সাবেক শ্বশুরের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, "আমার মেয়ে যদি আমাকে এমন কথা বলত, তবে তাকে জবাবদিহি করাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুই বছর অপেক্ষা করতাম না।" সাবেক শ্বশুরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে মিলার বলেন, "আপনি ভালো করেই জানেন যে এটি সত্য নয়। আপনার নিজের চারপাশের মিডিয়া সার্কাস থেকে বাঁচতেই আপনি এখন মুখ খুলছেন। এসবই স্রেফ রাজনীতি।"
ওহাইওর এই কংগ্রেসম্যানের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনো—যিনি সিনেটর মোরেনোর মেয়ে—এবং তাঁদের সন্তানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের ছায়া পড়েছে। সম্প্রতি আদালতে দায়ের করা আইনি নথির মাধ্যমে এই অভিযোগগুলো সামনে আসে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা মিলার ও এমিলির মধ্যে বর্তমানে আদালতে নির্দেশিত পারস্পরিক নিষেধাজ্ঞা (রিসট্রেইনিং অর্ডার) জারি রয়েছে। গত সপ্তাহে এমিলি আদালতের কাছে আবেদন করেন যেন মিলার তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। এমিলির অভিযোগ, তাঁদের ছোট মেয়ের কাস্টডি বা অভিভাবকত্ব নিয়ে চলমান লড়াইয়ের মধ্যে মিলার তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক ও মৌখিক বিরোধে জড়িয়েছেন।
আদালতের নথি ও পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, এমিলি তাঁর সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে মিলার তাঁর দিকে গরম পানি ছুড়ে মেরেছিলেন এবং গত বছর তাঁর দিকে পিস্তল তাক করেছিলেন। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়েকে হস্তান্তরের সময় মিলার তাঁকে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারেন এবং এর ফলে তাঁদের মেয়ের হাত ও কাঁধের হাড়ে আঘাত লাগে।
তবে ম্যাক মিলার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। রবিবার এক্স-এ এক লাইভস্ট্রিমে তিনি বলেন, যদি এসব অভিযোগ সত্য হতো তবে তিনি এতদিনে কারাগারে থাকতেন। অভিযোগগুলোর টাইমিং নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অভিভাবকত্বের লড়াইয়ে সুবিধা পেতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসব নোংরা অভিযোগ করা হচ্ছে। নিজের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে মিলার কাউন্টি তদন্তকারীদের একটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের পর তা "অপ্রমাণিত" বলে উল্লেখ করে গত এপ্রিলে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে এমিলি মোরেনোর মুখপাত্র স্টিফান মাইচাজলিও মিলারের এই লাইভস্ট্রিমকে "লজ্জাজনক" ও "মিথ্যাচারপূর্ণ" বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "মিলারের সহিংস ও বিপজ্জনক আচরণের প্রচুর নথিবদ্ধ প্রমাণ রয়েছে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করে এই সত্য ঢাকা যাবে না। মিলার এক্সে মিথ্যা বলতে পারেন, কিন্তু আদালতের কাঠগড়ায় শপথ নিয়ে মিথ্যা বলতে পারবেন না। আমরা নিশ্চিত যে আদালতেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।"

