২০১৯ সালের ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বিমান দুর্ঘটনায় নিহত জাতিসংঘের এক কর্মীর পরিবারকে ২৯ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এক আদালত মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইরিশ বংশোদ্ভূত মাইকেল 'মিক' রায়ানের স্ত্রী নাইসি কনলি রায়ান। মাইকেল রায়ান জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একজন প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১৫৭ জন যাত্রীর একজন ছিলেন, যেখানে সব যাত্রীই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার সময় ৩৯ বছর বয়সী মাইকেল রায়ান লাইবেরিয়ায় ইবোলা সংকট মোকাবিলায় কাজ করেছিলেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। জাতিসংঘের একটি স্মারক পাতায় তার আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ইথিওপিয়ায় কাজের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িংয়ের দুটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মোট ৩৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবশিষ্ট কয়েকটি দেওয়ানি মামলার মধ্যে এটি অন্যতম। অধিকাংশ দাবিই আদালতের বাইরে গোপন শর্তে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে নাইসি রায়ানের আইনজীবী স্টিভেন মার্কস জানিয়েছেন, তার মক্কেল বোয়িংয়ের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে আদালতের মাধ্যমে বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
বোয়িং কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং উভয় দুর্ঘটনার পেছনেই তাদের অ্যান্টি-স্টল সফটওয়্যারের ত্রুটি ছিল বলে স্বীকার করেছে। এর আগে মে মাসে শিকাগোর একটি আদালত একই ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ বছর বয়সী আমেরিকান তরুণী সামিয়া স্টুমোর পরিবারকে ৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছিল।

