ভারতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট আয়োজনে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান

ভারতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ। লাভজনক এই ক্রিকেট বাজারে আরও বেশি ম্যাচ বা 'কনটেন্ট' ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এমন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করতে রাজি আছেন তিনি।

আগামী বছরের মার্চ মাসে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম লড়াইয়ের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি দিবা-রাত্রির (গোলাপি বল) টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ম্যাচে অবশ্য ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজের কোনো যোগসূত্র থাকবে না। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের প্রেক্ষাপটেই ভারতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে একটি প্রদর্শনী টেস্ট আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল গ্রিনবার্গের কাছে। এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চলতি বছরের ডিসেম্বরে চেন্নাইতে মেলবোর্ন রেনিগেডস ও পার্থ স্করচার্সের মধ্যে একটি বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে গ্রিনবার্গ জানান, ভারতে টেস্ট আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।

গ্রিনবার্গ বলেন, "ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। স্পষ্টতই, ভারতের বাজারে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ম্যাচ বা কনটেন্ট বাড়ানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে। যদিও আমরা এই মুহূর্তে এমন কোনো পরিকল্পনা করছি না, তবে ভবিষ্যতে এই প্রস্তাবটি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।"

ভারতীয় ক্রিকেট বাজারের বিশাল অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি চলতি বছরের শুরুতে ইসিবির একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কারণে ইংলিশ ক্রিকেট বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে যাচ্ছে। অথচ বিপরীত চিত্র দেখা যাবে ২০২৭ সালে; সে বছর পুরুষ ও নারী উভয় অ্যাশেজ সিরিজ আয়োজন করা সত্ত্বেও ইসিবি লোকসানের আশঙ্কা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসিবির রাজস্ব মূলত চক্রাকার এবং প্রতিপক্ষের হাই-ভ্যালু বা উচ্চ মূল্যের সম্প্রচার সিরিজের ওপর এটি অনেকাংশে নির্ভরশীল।

তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যকার কোনো টেস্ট ম্যাচ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ইসিবি—উভয় বোর্ডেরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। সেই সাথে আয়োজক দেশ হিসেবে বিসিসিআইয়ের পূর্ণ সহযোগিতাও অপরিহার্য। বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জয়জয়কার এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের যুগে (যেমন 'দ্য হান্ড্রেড' টুর্নামেন্টে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিনিয়োগ) টেস্ট ক্রিকেটের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এমন উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন গ্রিনবার্গ। অবশ্য ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির মাঝে এমন একটি ম্যাচের জন্য সময় বের করা যে বেশ কঠিন, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সিএ প্রধান বলেন, "আমার মনে হয় আমাদের (অস্ট্রেলিয়া), ইংল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখনও অত্যন্ত তুঙ্গে। বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় এই তিনটি দেশের টেস্ট ক্রিকেট সম্ভবত ভিন্ন ধারা বজায় রাখছে। তাই আমরা এই ধারা ধরে রাখতে এবং টেস্ট ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যেতে চাই।"