সিপিএল ২০২৬-এ অবশেষে জয়ের দেখা পেল জ্যামাইকা কিংসমে। সাবিনা পার্কে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন্স ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আসরে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা। কার্ক ম্যাককেঞ্জির বিধ্বংসী ফিফটি এবং শেষদিকে আন্দ্রে রাসেল ও অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ বল বাকি থাকতেই ১৮৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় জ্যামাইকা।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান কার্ক ম্যাককেঞ্জি। আকিল হোসেনের করা প্রথম ওভারেই ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা হাঁকান তিনি। এরপর আকিলের করা তৃতীয় ওভারে তুলে নেন ১৮ রান। অভিজ্ঞ স্পিনার সুনীল নারিনকে কিছুটা সমীহ করলেও সুযোগ বুঝে স্লগ-সুইপে বাউন্ডারি ছাড়া করতে ছাড়েননি এই ব্যাটার। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে টেরেন্স হাইন্ডসকে তুলোধুনো করে ২৫ রান নেন ম্যাককেঞ্জি, যার সুবাদে মাত্র ১৯ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি। উসমান তারিককে আরেকটি ছক্কা মারার পর অবশ্য একই শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৭ ওভারে জ্যামাইকাকে ৯৩ রানের শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে যান তিনি। ২৫ বলে ৬৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন ম্যাককেঞ্জি।
উদ্বোধনী জুটিতে অন্যপ্রান্তে থাকা রিজা হেনড্রিক্স ২৯ বলে ৩৭ রান করে দলের আধিপত্য বজায় রাখেন। তবে ত্রিনবাগোর স্পিনার উসমান তারিক টানা ৪ ওভারের স্পেলে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। তারিক ও কাইরন পোলার্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জ্যামাইকার রানের গতি কিছুটা কমে যায় এবং পোলার্ডের বলে সাজঘরে ফেরেন কেসি কার্টি।
শেষ ৫ ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান। এমন সমীকরণে মাথা ঠান্ডা রাখেন আন্দ্রে রাসেল। সুনীল নারিনের শেষ ওভারটি দেখেশুনে খেলার পর টেরেন্স হাইন্ডসের ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন রাসেল। এরপর অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে নাথান এডওয়ার্ডের এক ওভারেই ২৮ রান তুলে ম্যাচ জ্যামাইকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। রাসেল আউট হলেও পাওয়েল ২৯ রানে অপরাজিত থেকে সিঙ্গেলস নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধুঁকতে থাকে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। ২৬ বলে মাত্র ১৬ রান করে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে রাসেলের বলে বিদায় নেন কলিন মুনরো। অ্যালেক্স হেলসও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ১২ ওভার শেষে ত্রিনবাগোর সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭৭ রান। নিকোলাস পুরানও শুরুতে বেশ ধীরগতিতে খেলছিলেন।
তবে পোলার্ড ক্রিজে আসার পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ভিটেল লসের এক ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে পোলার্ড ত্রিনবাগোর ইনিংসে গতি আনেন। পোলার্ডের এই মারকুটে ব্যাটিং পুরানকেও অনুপ্রাণিত করে। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। দুজনেই ৪৪ রান করে দ্রুত বিদায় নিলেও শেষদিকে জিদ গুলি ও সুনীল নারিনের ছোট ক্যামিওতে ১৮০ পার করে ত্রিনবাগো। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে তারা। জ্যামাইকার পক্ষে হুনাইন শাহ ৩১ রানে এবং আন্দ্রে রাসেল ৩৪ রানে ২টি করে উইকেট নেন।

