বসনিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচ তার সাবেক দুই ইতালীয় ক্লাব রোমা ও জুভেন্টাসকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তার মতে, রোমা এবার ইতালিয়ান সিরি এ লিগ বা 'স্কুডেট্টো' জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে, তবে জুভেন্টাসের জন্য শিরোপার লড়াইয়ে নামার সময় এখনও আসেনি।
ইতালির ট্রেন্টোতে আয়োজিত 'ফেসবিল ডেলো স্পোর্ট'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালসিওমারকাতো-র বরাতে পিয়ানিচ রোমার প্রশংসা করে বলেন, "রোমা স্কুডেট্টোর স্বপ্ন দেখতেই পারে। ওদের খেলা দেখা সত্যিই আনন্দের। তারা বেশ ভালো খেলছে। আক্রমণভাগে দিবালা যদি ফিট থাকেন এবং মালেনকে সাথে নিয়ে তারা সত্যিই রোমে স্কুডেট্টো ফিরিয়ে আনতে পারে। এই মুহূর্তে তারাই শিরোপার সবচেয়ে যোগ্য দল।"
অন্যদিকে, জুভেন্টাসকে নিয়ে পিয়ানিচ কিছুটা সতর্ক। গত মৌসুমে ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করা জুভেন্টাস এবার খেলছে ইউরোপা লিগে। পিয়ানিচ বলেন, "আমার মনে হয় জুভেন্টাসের স্কুডেট্টো নিয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি। গত মৌসুমের পারফরম্যান্স দেখলে আপনি এই লক্ষ্য নিয়ে শুরু করতে পারেন না। ইন্টার মিলানই স্কুডেট্টোর প্রধান দাবিদার, এরপর রয়েছে নাপোলি ও রোমা।" তিনি আরও যোগ করেন, "জুভেন্টাসের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত দল পুনর্গঠন করা, কারণ জুভেন্টাসে সবাই সবসময় জিততে চায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে আসাই এখন তাদের জন্য সঠিক লক্ষ্য হওয়া উচিত।"
পিয়ানিচের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যা লুসিয়ানো স্পালেত্তির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে, যিনি এই সপ্তাহান্তেই ক্লাবে '২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) ইউরোর দায়িত্ব' অনুভব করার কথা বলেছিলেন। সাক্ষাৎকারে পিয়ানিচ তার উত্তরসূরি হিসেবে এক তরুণ প্রতিভার নামও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "নতুন পিয়ানিচ? করিমের ভাই এমরে আলাজবেগভিচের বয়স এখন ১৩ বছর। আর কয়েক বছর পর আমরা তাকে নিয়ে কথা বলব, আপনারা নিজেই দেখতে পাবেন।"
সতীর্থদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লিওনেল মেসিকে সবার উপরে রেখেছেন পিয়ানিচ। বার্সেলোনায় মেসির সাথে এক বছর কাটানো এই মিডফিল্ডার বলেন, "আমি তার সাথে একটি বছর কাটিয়েছি। প্রতিদিন সে মাঠে যা করত, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হতো সে মাঠে যা খুশি তা-ই করতে পারে।"
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মানসিক শক্তির প্রশংসাও করেন পিয়ানিচ, যার সাথে তিনি জুভেন্টাসে খেলেছেন। রোনালদো সম্পর্কে তিনি বলেন, "রোনালদোর মতো মানসিক শক্তি আমি অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। ক্রিশ্চিয়ানো দলে থাকলে আমরা সবসময় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে খেলা শুরু করতাম। গোল করার জন্য সে সবসময় মরিয়া থাকত। এমনকি সে যদি ১০টি গোলও মিস করত, তার মানসিকতা এমন ছিল যে পরেরবার সে ঠিকই গোল করবে।"

