সেরি আ-তে নিজের প্রিয় স্টেডিও অলিম্পিকোতে রোমার মুখোমুখি হয়ে ২-০ ব্যবধানে হারের মুখ দেখেছে দানিয়েলে ডি রসির দল জেনোয়া। সাবেক ক্লাবের মাঠে রোমার বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল দেখালেও সান্তিয়াগো কাস্ট্রোর এক অনবদ্য গোলেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করেন জেনোয়া কোচ ডি রসি। ফ্রান্সেস্কো তত্তির পর রোমার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই কিংবদন্তি ক্লাবটির কোচ হিসেবেও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে অলিম্পিকোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে তার ফেরাটা সব সময়ই বিশেষ এক আবেগ বহন করে।
ম্যাচে দীর্ঘ সময় রোমাকে আটকে রেখেছিল জেনোয়া। তবে কাস্ট্রোর এক দুঃসাহসিক চিপ গোলের পর এমানুয়েলে লুল্লির ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক রোমা। ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে ডি রসি বলেন, "আমরা মেনে নিচ্ছি রোমা একটি শক্তিশালী দল এবং এই ফলাফলও আমরা মেনে নিচ্ছি। তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে যদি আগেই পরাজয় ধরে নিই, তা হবে মারাত্মক সমস্যা। গত মৌসুমেও রোমা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী ছিল, কিন্তু আমরা তাদের হারিয়েছিলাম।"
ডি রসির মতে, কাস্ট্রোর ওই দুর্দান্ত গোলের আগ পর্যন্ত প্রথম ৫০ মিনিট ম্যাচটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, "দলের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা আমার ভালো লেগেছে। ওই গোলটি আমাদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত ছেলেরা ম্যাচে টিকে ছিল।" প্রথমার্ধে জেনোয়ার হয়ে প্রাক্তন রোমা তারকা স্তেফান এল শ্যারাউই অলিম্পিকোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিরে একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করলেও ম্যাচ গড়ালে জেনোয়ার আক্রমণের ধার কমতে থাকে। প্রথমার্ধে ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা ও একবনাম-এক লড়াইয়ে জয়ের কারণে দল স্পেস তৈরি করতে পারলেও, বিরতির পর কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় রোমাকে বল নিয়ন্ত্রণে এক সেকেন্ড বেশি সময় দেয়াটাই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফিওরেন্তিনার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয়ের আগে চলতি সেরি আ মৌসুমে প্রথম পাঁচ ম্যাচ থেকে জেনোয়া পেয়েছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। ফলে ডি রসির ওপর চাপের মেঘ পুরোপুরি কাটেনি। ক্লাবের পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ডি রসি জানান, ফিওরেন্তিনা জয়ের পর ফলের দিক থেকে না হলেও দলের জেদ, দৃষ্টিভঙ্গি ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আলাদা পরিকল্পনা থাকলেও ফুটবলারদের মনোভাবে তিনি সন্তুষ্ট।
ম্যাচে ইতালি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ প্রতিভা স্যামুয়েল ওয়িয়াফেকে সেরি আ-তে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ দেন ডি রসি। গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ধারে পাঠানোর কথা থাকলেও ওয়িয়াফের শারীরিক শক্তি ও খেলার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে মূল দলে রেখে দেয় জেনোয়া। অন্যদিকে, ইনজুরির আশঙ্কায় নিজ মূল ক্লাবের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি তলমাসো বালদানজি। অনুশীলনে উরুর অ্যাডাক্টর পেশিতে টান অনুভব করায় তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগামী সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেনোয়া কোচ।

