গ্রিস ও সাইপ্রাসের প্রতি তুরস্কের আচরণকে ‘গুণ্ডামিসুলভ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সেনেটর রিক স্কট। একই সঙ্গে এজিয়ান সাগরের আকাশসীমা, সামুদ্রিক সীমানা ও বিভক্ত সাইপ্রাস দ্বীপ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর প্রতি আঙ্কারার আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত এই সেনেটর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ‘ন্যাটো মিত্রের মতো আচরণ করছে না’। এ প্রসঙ্গে তিনি গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের আকাশসীমা ও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে তুর্কি সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন। গ্রিস ও সাইপ্রাস সফরের সময় এথেন্সে অবস্থানকালে মার্কিন এই আইনপ্রণেতা ন্যাটোর এক জোটসঙ্গীর বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন ও কঠোর মন্তব্য করলেন।
মূলত গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে পরিকল্পিত একটি বিদ্যুৎ সংযোগ ক্যাবল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্পটিতে পরবর্তীতে ইসরায়েলকেও যুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে তুরস্কের দাবি, সমুদ্র তলদেশে যেকোনো ধরনের ভৌগোলিক জরিপ শুরুর আগে আঙ্কারার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এ প্রসঙ্গে স্কট মন্তব্য করেন, গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের এই যৌথ উদ্যোগ তাদের নিজস্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ইতিবাচক। এতে তুরস্ক যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট আর্মড সার্ভিসেস এবং ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য রিক স্কট গ্রিক সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাত নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এথেন্স সফর করেছিলেন। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে স্কট বলেন, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে অন্য দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা বা অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড সামরিকভাবে দখল করে রাখা কোনো মিত্রের আচরণ হতে পারে না। তিনি আশা করেন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, তবে বিদ্যমান বাস্তবতায় একে ‘গুণ্ডামিসুলভ আচরণ’ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না।
এ ছাড়া, গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের সাম্প্রতিক পদত্যাগের কারণে ওয়াশিংটন ও এথেন্সের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে নিশ্চিত করেন সেনেটর স্কট। অনুচিত ও সম্ভাব্য অবৈধ আচরণের অভিযোগ ওঠার পর হোয়াইট হাউস গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল, যদিও তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

