ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অদূরে রাতের বেলা রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় বিধ্বস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগের কর্মীরা একটি ভবন এবং একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছেন। ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস (ডিএসএনএস) কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে কিয়েভে গ্যারেজ, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে পৌঁছেছেন। এটি তার প্রথম সার্বিয়া সফর। সেখানে তিনি সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করছেন। জেলেনস্কি ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, তবে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং তারা ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ বছর মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং কৃষ্ণসাগরে মস্কো-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফের ভাষ্যমতে, শনিবার রাতে চালানো অভিযানে রাশিয়ার ইলস্কি এবং সিজরান তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়ন সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতা আলোচনা থমকে যাওয়ায় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে।
শনিবার ভোরের দিকে রাজধানী কিয়েভের পূর্ব দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনজুড়ে চালানো এই হামলার কয়েক দিন আগেই ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রত্যক্ষদর্শীরা শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।

