শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গালে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অনবদ্য ১৬৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ভারতের দেবদত্ত পাডিক্কাল। টেস্ট ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম শতরান, যা ভারতের হয়ে যেকোনো ফরম্যাটেই প্রথম তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। তবে সেঞ্চুরি করেই থেমে যাননি তিনি, বরং সেটিকে বড় ইনিংসে রূপান্তর করেছেন। ম্যাচ শেষে নিজের এই বড় ইনিংস খেলার পেছনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে 'রান করার ক্ষুধা'র কথা জানিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ বার সেঞ্চুরি করে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ১৫০ বা তার বেশি রান করার দারুণ রেকর্ড গড়লেন পাডিক্কাল। সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, এটা শুধুই আরও বেশি রান করার ক্ষুধা। আমি ব্যাটিং উপভোগ করি। সেঞ্চুরি করার পর সহজেই স্বস্তি চলে আসতে পারে বা শরীর শিথিল হয়ে যেতে পারে। তবে আমার জন্য পরের ২০-৩০ বল খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন আমি পুরোপুরি মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করি।" তিনি আরও জানান, সেঞ্চুরি করার পর প্রথম দশটি বল পার করতে পারলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কর্ণাটকের সিনিয়র ক্রিকেটারদের বড় বড় ইনিংস খেলতে দেখেই তিনি নিজের ইনিংস দীর্ঘ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
লঙ্কান স্পিনারদের বিপক্ষে পাডিক্কালের আগ্রাসী ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম বলেই পুল করে চার এবং ষষ্ঠ বলে সোজা ছক্কা মেরে শুরু করেছিলেন তিনি। স্পিন খেলার পরিকল্পনা নিয়ে পাডিক্কাল বলেন, "আমরা দলে এটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। স্পিনের বিপক্ষে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি। আপনি শুধু বলের ওপর প্রতিক্রিয়া দেখানোর আশা করতে পারেন না। ক্রিজে যাওয়ার আগেই কয়েকটি শট মাথায় রাখা উচিত যাতে বোলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। গত এক বছর ধরে আমরা নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে বোলারদের চাপে ফেলার কৌশল নিয়ে কাজ করেছি।" নিজের ফুটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি জানান, পরিকল্পনা স্পষ্ট থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ডিফেন্সিভ হোক বা আক্রমণাত্মক, প্রতিটি শটে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকাই তাঁর ফুটওয়ার্ক ভালো হওয়ার কারণ।
বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে ভারত ৯ উইকেটে ৪৬০ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করে। উইকেট কিছুটা টার্ন করতে শুরু করলেও পাডিক্কালের ধারণা, উইকেট পুরোপুরি ভাঙতে আরও কয়েকটা সেশন লাগবে। তবে গালের উইকেট সাধারণত তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে দ্রুত গতির হয়ে ওঠে, যা ভারতের বোলারদের সাহায্য করবে বলে তিনি আশা করেন।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনে ৫৫ ওভার নষ্ট হওয়ায় ভারতের ইনিংসে দ্রুত রান তোলার তাড়া দেখা যায়। ঋষভ পন্ত ও পাডিক্কাল দুজনেই স্পিন আক্রমণ করতে গিয়ে আউট হন। তবে ছয় নম্বরে নেমে ৬৮ বলে ৫১ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন ধ্রুব জুরেল। দলের পরিকল্পনা নিয়ে জুরেল বলেন, "দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনা ছিল ঠিকই, তবে প্রথম বল থেকেই অন্ধের মতো মারার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমাদের লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলা এবং যত বেশি সম্ভব রান করা। ঋষভ ভাই এবং লোয়ার অর্ডারের অন্যদের সঙ্গে ভালো জুটি গড়াই ছিল মূল পরিকল্পনা।"
ভারত 'এ' দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের অভিজ্ঞতা থেকে জুরেল জানান, গালের উইকেট আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে দ্রুত বদলে যায়। রোদ উঠলে উইকেট শুষ্ক হয়ে যায়, আবার কাভারে ঢাকা থাকলে আর্দ্রতা চলে আসে। ম্যাচ জিততে ভারতীয় বোলারদের দীর্ঘ ও ধারাবাহিক স্পেল করার পাশাপাশি ২০টি উইকেট নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

