স্কুল খোলার এই সময়ে নতুন করে কর্মব্যস্ততার চাপে পড়ার প্রবণতা আমাদের অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বছরের শুরুতে যেমন আমরা নিজেদের আরও দক্ষ কর্মী, বন্ধু বা অভিভাবক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, সেপ্টেম্বরেও সেই একই মানসিকতা কাজ করে। এই সংস্কৃতিকে ‘অপ্টিমাইজেশন’ বা সব কিছুতেই সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের তাড়না বলা হচ্ছে। অথচ এই অতিরিক্ত চাপের ফলে মানসিক ক্লান্তি ও বার্নআউটের ঝুঁকি বাড়ছে। মেন্টাল হেলথ ইউকে-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৯১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই বার্নআউটের ঝুঁকিতে ছিলেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় হলো জীবনযাত্রার গতি কমিয়ে আনা। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক হিজিউং চুং-এর মতে, ডিজিটালাইজেশনের যুগে সবকিছুই তীব্রতর হচ্ছে, যা আমাদের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশার চাপ তৈরি করছে।
অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলা আমাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। ড. জিলিয়ান স্যান্ডস্ট্রম তাঁর ‘ওয়ান্স আপন আ স্ট্রেঞ্জার’ বইয়ে দেখিয়েছেন যে, অপরিচিতদের সাথে ছোটখাটো আলাপচারিতা আমাদের মেজাজ উন্নত করে এবং বর্তমান মুহূর্তের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ২০১২ সালের একটি গবেষণাও বলছে, অন্যের জন্য সময় ব্যয় করলে নিজের হাতে অনেক বেশি সময় আছে বলে মনে হয়।
চলাফেরার গতি কমিয়ে আনাও মানসিক প্রশান্তির একটি উপায়। হেডস্পেসের সারা হজেস পরামর্শ দেন, শিশু বা বয়স্কদের সাথে হাঁটার সময় তাদের গতিতেই পথ চলতে। এতে তাড়াহুড়ো কমে এবং আমরা চারপাশের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো খেয়াল করতে পারি। অক্সফোর্ড মাইন্ডফুলনেস ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক মার্ক উইলিয়ামস মনে করেন, সোজা হয়ে হাঁটা বা দাঁড়ানো আমাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হলো, শিশুদের সব সময় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা না করে তাদের একঘেয়েমি বা বোরডমকে গ্রহণ করতে দেওয়া। স্লো লিভিং-এর লেখক স্টেফানি ও’ডি বলেন, একঘেয়েমি সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতার জন্ম দেয়। শিশু যখন বলে সে বিরক্ত, তখন তাকে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব না দিয়ে বরং তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতায় আস্থা রাখা উচিত। এছাড়া ঘরের সাধারণ কাজে তাদের সঙ্গী করাও সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে পারে।
অবসর সময়কে কেবল কাজ বা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে আনন্দের জন্য ব্যবহার করা উচিত। রোজি নিক্সন এই সময়ে ‘জয় অডিট’ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে আমরা নিজেদের ভালো লাগার কাজগুলো খুঁজে বের করি এবং অপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব বা সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকি।
কাজের ক্ষেত্রেও বিরতি নেওয়া জরুরি। অধ্যাপক চুং-এর গবেষণা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া কর্মদক্ষতা বাড়ায়। কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি, যেমন দুই মিনিটের জন্য জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো বা বুক ভরে শ্বাস নেওয়া, মন ও মনোযোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই; সাধারণ হাঁটা বা একসাথে খাবার শেয়ার করাই যথেষ্ট। জ্যাগো র্যাকহামের মতে, সেপ্টেম্বর হলো গ্রীষ্মের অস্থিরতা কাটিয়ে শীতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সময়, যেখানে ধীরস্থির জীবনযাপনই সবচেয়ে আনন্দদায়ক।

