লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ৩৮৮ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছিল স্বাগতিকরা। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। সৌদ শাকিলের অনবদ্য লড়াই সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা, যার ফলে সিরিজটি নিজেদের পকেটে পুরে নিল ইংলিশরা।
এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। আগের দিনের হাফসেঞ্চুরিয়ান ড্যান লরেন্স পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে দিন শুরু করেছিলেন। ওলি রবিনসনও মোহাম্মদ আলীর বলে একটি বাউন্ডারি হাঁকান। তবে মোহাম্মদ আব্বাসের একটি ভেতরে ঢোকা বলে লরেন্সের অফস্টাম্প উড়ে গেলে প্রথম ব্রেকথ্রু পায় পাকিস্তান। এরপর রবিনসনের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ গেলে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আব্বাস। জশ টাং কয়েকটি বাউন্ডারি মারলেও শেষ পর্যন্ত একটি রান আউটের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়। ফলে তাদের লিড ৪০০ রান স্পর্শ করতে পারেনি।
৩৮৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ওলি রবিনসন জোড়া আঘাত হানেন। প্রথমে আজান আওয়াইসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। একই ওভারের পরের দিকে আবদুল্লাহ শফিককে শূন্য রানে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান রবিনসন। দুই ওভার পর জোফরা আর্চারের বলে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। আর্চারের একটি শর্ট ডেলিভারিতে বাবর আজম অপ্রস্তুত অবস্থায় হাফ-লিভ করতে গিয়ে স্লিপে জর্ডান কক্সের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে বসেন।
লাঞ্চের আগে সৌদ শাকিল ও শান মাসুদ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেন। ইংলিশ বোলারদের পরাস্ত করে তারা কিছু বাউন্ডারি আদায় করেন এবং প্রথম সেশনটি পার করেন। এই সময় দ্রুত উইকেট নেওয়ার চেষ্টায় ইংল্যান্ড দুটি রিভিউও নষ্ট করে। লাঞ্চের পর শাকিল ও মাসুদ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মাত্র ৫৪ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন শাকিল। এরপর বৃষ্টির কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে আবারও ইংল্যান্ডকে ব্রেকথ্রু এনে দেন রবিনসন। তিনি শান মাসুদের প্রতিরোধ ভাঙেন। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান রবিনসনের বলেই স্লগ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। অর্ধেক ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর এবং ইমাম-উল-হক চোটের কারণে ব্যাটিং করার মতো ফিট না থাকায় পাকিস্তানের পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আলী উসমান ৪৪ বল খেলে আর্চারের বলে বোল্ড হন। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা সৌদ শাকিল জশ টাংয়ের এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৯৭ রানে থাকা অবস্থায় সীমানার কাছে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। টাং পাকিস্তানের শেষ উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:ইংল্যান্ড: ২৯০ (জেমি স্মিথ ৬১; মোহাম্মদ আব্বাস ৪-৭৩) ও ২০৮ (ড্যান লরেন্স ৫৪; মোহাম্মদ আব্বাস ৫-৫৭)পাকিস্তান: ১১০ (আজান আওয়াইস ৪৬; ওলি রবিনসন ৪-১১) ও ১৯৪ (সৌদ শাকিল ৯৭; ওলি রবিনসন ৪-২৪)ফল: ইংল্যান্ড ১৯৪ রানে জয়ী।

