আগস্ট ৫, ২০২৬ / ৫:৪৩ পিএম ইডিটি / সিবিএস নিউজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে উড্ডয়নের সময় কেন ওয়াশিংটনের রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের ট্রাফিক চলাচল বন্ধ করা হয়নি, তা নিয়ে তদন্ত করছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরে একটি আর্মি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জেট বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর, পরিবহন বিভাগ বিমানবন্দরটির আশেপাশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হেলিকপ্টার চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও মেরিন ওয়ান এবং জরুরি ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত, তবে নিয়ম অনুযায়ী যখনই এগুলো পোটোম্যাক নদী পার হয়, তখন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড স্টপ বা বিমান চলাচল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন পশ্চিম উপকূলের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করছিলেন, তখন মেরিন ওয়ানের পাইলট ডিসিএ (DCA) টাওয়ারের সাথে তিনবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিট আগে এই বার্তা পাঠানোর সময় টাওয়ার একবার সাড়া দিলেও, পাইলটের কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট হওয়ায় তারা বারবার বার্তাটি রিপিট করতে বলে।
মেরিন ওয়ান উড্ডয়নের পর বিষয়টি টাওয়ারকে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। সেই মুহূর্তে টাওয়ার থেকে হেলিকপ্টারটিকে সতর্ক করে জানানো হয় যে বিমানবন্দরে তখনো বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল এবং একটি বিমান আকাশে ছিল। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার মেরিন ওয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'মেরিন ওয়ান, রানওয়ে ওয়ান থেকে ট্রাফিক ঘুরছে।' জবাবে মেরিন ওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং টাওয়ারকে জানায় যে তারা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে বা বিলম্ব করবে।
দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ঘটনার খবর প্রকাশ করে। এফএএ নিশ্চিত করেছে যে এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই ঝুঁকির মুখে পড়েননি। এফএএ-এর ভাষ্যমতে, 'সেখানে সাময়িকভাবে দূরত্বের বিচ্যুতি ঘটেছিল, যার পরপরই বিমানগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়।' সংস্থাটি ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে মেরিন কোরের দাবি, পুরো ফ্লাইটটি ছিল একটি 'রুটিন' কার্যক্রম। তাদের মতে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা হেলিকপ্টারের অনুরোধ করা রুট অনুমোদন করেছিলেন এবং সময়মতো যথাযথ ট্রাফিক তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।

