চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর অন্যতম পলিটব্যুরোর সাবেক সদস্য মা শিংরুইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের এক সপ্তাহ পরই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
হুবেই প্রদেশের ইচ্যাং শহরের সরকারি কৌঁসুলিরা মা শিংরুইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি নিজের উচ্চপদস্থ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে “অস্বাভাবিক রকমের বড়” অংকের ঘুষ গ্রহণ করেছেন। শিনহুয়া বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কেবল আর্থিক সম্পদই গ্রহণ করেননি, বরং প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।
মা শিংরুই ২০২২ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে গত এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও জাতীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যদিও সেই সময় সুনির্দিষ্ট কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তার কর্মজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি চীনের মহাকাশ কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন’-এর নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিলেন। এছাড়া তিনি শেনঝেন শহরের পার্টি সেক্রেটারি এবং গুয়াংডং প্রদেশের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিনহুয়ার ভাষ্যমতে, কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন যে, এসব পদে থাকাকালীন অর্জিত ক্ষমতা ও সুবিধা অপব্যবহার করেই তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
মা শিংরুইয়ের বহিষ্কারের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা আরও ৩০ জনেরও বেশি সিনিয়র কর্মকর্তার বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন, যার মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেল হিসেবে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। মা শিংরুই এবং দুইজন সামরিক জেনারেলসহ বর্তমানে পলিটব্যুরো থেকে মোট তিনজন সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, মা শিংরুই ২০২৫ সাল পর্যন্ত জিনজিয়াং অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ছিলেন এবং তার আগে গুয়াংডং প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চীনের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি প্রদেশ বা অঞ্চলে পার্টি প্রধানের পদ গভর্নর পদের চেয়েও উঁচুতে থাকে।

