২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৮:৩০ মিনিটের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুর প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়েতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন তরুণী প্রাণ হারান। নিহতরা সবাই পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলফা ফাই সোরোরিটির সিনিয়র শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা হলেন নিয়াভ রোলস্টন, পেটন স্টুয়ার্ট, আশা উইয়ার এবং ডেসলিন উইলিয়ামস। দুর্ঘটনার সময় তারা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন ফ্রেজার বোমের নিয়ন্ত্রণ হারানো বিএমডব্লিউ গাড়িটি পার্ক করা গাড়িতে আঘাত করে এবং সেই গাড়িগুলো তাদের ওপর আছড়ে পড়ে।
২২ বছর বয়সী ফ্রেজার বোম বর্তমানে চার দফা দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং চার দফা ভেহিকুলার ম্যানস্লটারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন, যার তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। কৌঁসুলিরা দাবি করেছেন, বোম জানতেন যে ৪৫ মাইল গতিসীমার এলাকায় ১০৪ মাইল গতিতে গাড়ি চালানো কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তবুও তিনি তা করেছেন, যা জীবনের প্রতি তার চরম অবজ্ঞার পরিচয় দেয়।
ঘটনার পর পুলিশকে দেওয়া বয়ানে বোম বলেছিলেন, আমি খুব খারাপ বোধ করছি। বিশ্বাস করুন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যদিও বোমের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা এবং অন্য একজন চালক তাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। বোমের আইনজীবী অ্যালান জ্যাকসন দাবি করেছেন, তার মক্কেলের হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ ছিল না এবং প্রসিকিউশন এই মামলাটিকে অযৌক্তিকভাবে বড় করে দেখছে।
বোম বর্তমানে ৪ মিলিয়ন ডলার জামিনে মুক্ত আছেন। প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতে বোমের সেই সময়ের মন্তব্যের উল্লেখ করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে তিনি 'স্পিড কিলস' বা গতির কারণে মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, কারণ তার দুই বন্ধু অতীতে উচ্চ গতির গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। প্রসিকিউটরদের মতে, মালিবুর জনবহুল এলাকায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি সম্পর্কে বোম পুরোপুরি অবগত ছিলেন।
বোমের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে অতীতে এই এলাকায় অনেক সংঘর্ষ ঘটলেও কেবল এই ঘটনাটিই প্রাণঘাতী ছিল, যা প্রমাণ করে যে এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ গতির গাড়ি দুর্ঘটনাকে হত্যা হিসেবে গণ্য করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট বদলে দিতে পারে।
