গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের মাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দুর্যোগ প্রশমন বিষয়ক জাতীয় সমন্বয়কারী সংস্থা কনরেড (CONRED) স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, পূর্ব দিক থেকে আসা একটি ট্রপিক্যাল ওয়েভের কারণে বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা আগ্নেয়গিরির ঢাল থেকে লাহার বা প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির কাদা প্রবাহ সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
কনরেড নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে যেসব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকে স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে অগ্ন্যুৎপাত এখনো অব্যাহত থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক সরানোর নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়গিরিটির ঢালে অবস্থিত অন্তত ১৮টি কমিউনিটি থেকে প্রায় ১,৭০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আগ্নেয়গিরিটির লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, মাঝে মাঝে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও কিছু সময় পরপর ছাই নির্গত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) উচ্চতায় লাভা উদগিরণ হয়, যার ফলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। সেই সময় একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তিনটি বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছিল।
ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি গুয়াতেমালার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ৩,৭৬৮ মিটার (১২,৩০০ ফুট) উচ্চতার এই স্ট্র্যাটো-ভলকানোটি শক্ত লাভা, ছাই ও পাথরের স্তরে গঠিত। এটি দেশটির দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলের এস্কুইন্টলা, চিমালতেনাঙ্গো এবং সাকাতেপেকুয়েজ বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থিত এবং রাজধানী থেকে ৫৩ কিলোমিটার (৩৩ মাইল) দূরে। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ জুন এক অগ্ন্যুৎপাতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং একটি সম্পূর্ণ জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, যা প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। গত বছরও আগ্নেয়গিরিটির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

