জেফ্রি এপস্টাইনের অপরাধের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সাজা উল্টানোর সব আইনি পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে তার মুক্তির একমাত্র ক্ষীণ আশা হিসেবে দেখা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমার সম্ভাবনাকে।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক পল এঞ্জেলমেয়ার গত সপ্তাহে ম্যাক্সওয়েলের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তার বিচার এবং সাজা ঘোষণার সময় সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। বিচারক তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ম্যাক্সওয়েলের এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং অনেকাংশেই অর্থহীন। এমনকি 'এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট'-এর আওতায় প্রকাশিত নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ম্যাক্সওয়েল যে দাবি করেছিলেন, তাও বিচারক নাকচ করে দিয়েছেন। এঞ্জেলমেয়ারের মতে, নতুন তথ্যগুলো তাকে নির্দোষ প্রমাণ করার পরিবর্তে বরং তার অপরাধকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ম্যাক্সওয়েলের পরিবার এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিচারকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, আদালতের সুর ছিল উপহাসমূলক, যা বিচারিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা জানিয়েছে, ম্যাক্সওয়েল আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি তার সমস্ত আইনি সুযোগ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। প্রাক্তন ফেডারেল প্রসিকিউটর নিমা রহমানি জানান, সরাসরি আপিলের সুযোগ শেষ হওয়ার পর এখন তিনি যে আইনি লড়াই করছেন, তা অত্যন্ত কঠিন। তার মতে, জেল থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমা।
ম্যাক্সওয়েলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগের প্রচেষ্টাটিও ব্যর্থ হয়েছিল। এখন তিনি দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করার চেষ্টা করতে পারেন, তবে মার্ক চুটকোর মতো প্রাক্তন প্রসিকিউটরদের মতে, সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যেহেতু বিচারক এঞ্জেলমেয়ার সার্টিফিকেট অব আপিলিবিলিটি দেননি, তাই আইনি পথটি কার্যত রুদ্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষমার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। ট্রাম্প অতীতে এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বিচার বিভাগ সময়মতো সব নথি প্রকাশ করেনি। ট্রাম্প নিজেও ক্ষমা করার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে জানিয়েছেন যে তিনি এটি নিয়ে ভাবেননি। রিপাবলিকান কৌশলী ব্রিটানি মার্টিনেজ সতর্ক করে বলেছেন, এপস্টাইন বিতর্ককে 'প্রতারণা' বলে অভিহিত করার পর আবার তারই সহযোগীকে ক্ষমা করা রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর হতে পারে।
এদিকে, ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা মনে করেন, ম্যাক্সওয়েলকে ক্ষমা করা হবে ভুক্তভোগীদের জন্য একটি বড় অপমান। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণের কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ম্যাক্সওয়েলের পরিবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমার আবেদন করা হয়নি।

