গ্রিসের এথেন্সের পশ্চিমে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুটি অগ্নিনির্বাপণকারী হেলিকপ্টার আকাশে সংঘর্ষের কবলে পড়ে। রোববার ঘটা এই দুর্ঘটনায় একটি হেলিকপ্টার মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে এক গ্রিক ও এক ডেনিশ নাগরিকসহ মোট দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন ক্রু সদস্য—একজন গ্রিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক—নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।
হেলিকপ্টার দুটি এথেন্সের পশ্চিমে পসাথা এলাকায় কাজ করছিল এবং প্রতিটি হেলিকপ্টারে দুজন করে ক্রু ছিলেন। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, পোর্তো গ্রেমেনোতে বড় ধরনের অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সময় গ্রিক কোঅর্ডিনেটর এবং ডেনিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় জনবসতি ও শিল্পাঞ্চলকে হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে দমকল বাহিনীর বিমানগুলো সমুদ্র থেকে পানি সংগ্রহ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। এই দাবানল এমন একটি অঞ্চলে ছড়িয়েছে যা ২০১৮ সালের মাতি দাবানলের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে ১০৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ কান্দিলি, আগিয়া স্কেপি এবং তুতুলিতে নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পোর্তো গ্রেমেনোর উপকূলীয় এলাকা নিয়েও দমকল কর্মীরা উদ্বিগ্ন। দাবানলটি শুক্রবার আগিওস ভ্যাসিলিওসের কাছে শুরু হয়েছিল এবং পরে তা পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা সমুদ্রপথে ২৫৪ জনকে উদ্ধার করেছেন। দাবানলের প্রভাবে নেয়া টেনডোস ও কেফালোনিয়া অঞ্চলেও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে ক্রিট ও পেলোপন্নিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে আরও তিন দমকল কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ। ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও ৪২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৩,০০০ দমকল কর্মী কাজ করছেন। ফ্রান্সের ভার অঞ্চলে আরও ১,৫০০ দমকল কর্মী একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন। স্পেন এবং ফ্রান্স মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে দাবানলের তীব্রতা ও ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

