গ্রেনাডাসহ পূর্ব ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডিকন মিচেল তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসের প্রার্থী মিচেল দীর্ঘদিন ধরেই দাসপ্রথার জন্য ব্রিটেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রী মিচেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন ডেমোক্রেটিক পিপলস মুভমেন্টের প্রার্থী পিটার ডেভিড, যিনি আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিচেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে দ্বীপটির অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন করবেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটাবেন এবং তরুণদের বেকারত্বের হার কমিয়ে আনবেন। অন্যদিকে, পিটার ডেভিড নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গ্রেনাডা, ক্যারিয়াকু এবং পেটিট মার্টিনিকের ৯৭ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। দেশটির হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ১৫টি আসনে এই ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে সেনেটের ১৩ জন সদস্যকে নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যান্য নেতারাও দাসপ্রথার বিষয়ে ব্রিটেনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে জ্যামাইকা রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে এ সংক্রান্ত দাবি উত্থাপন করে, যা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আপিল আদালতে বিচারাধীন। তবে ব্রিটিশ সরকার বরাবরই ক্ষমা প্রার্থনা বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শাসনের পর গ্রেনাডা স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে ১৯৮৩ সালে দেশটির তৎকালীন মার্ক্সবাদী প্রধানমন্ত্রী মরিস বিশপ, তার মন্ত্রিসভার তিন সদস্য এবং আরও চারজনকে হত্যার পর সেখানে মার্কিন আগ্রাসনের ঘটনা ঘটেছিল। জাতিসংঘের অনেক দেশ এই আগ্রাসনের নিন্দা জানালেও, গ্রেনাডা প্রতি বছর ২৫ অক্টোবর দিনটিকে 'থ্যাঙ্কসগিভিং ডে' হিসেবে পালন করে থাকে।

