গায়ানার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় ফেরি ‘এমভি বারীমা’ ডুবির ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে দেশটির সরকার। গত ১৮ জুন রাজধানী জর্জটাউন থেকে ভেনিজুয়েলা সীমান্তের কাছের আদিবাসী এলাকা পোর্ট কাইতুমা যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে ৮৭ বছরের পুরোনো ফেরিটি উল্টে যায়।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ১৭৯ জন যাত্রী ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত ডুবুরিরা ৭৩টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন এবং ৭৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে এবং বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনের সুবিধার্থে নৌযানটি উদ্ধারে কাজ করছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল।
রোববার এক রাষ্ট্রীয় ভাষণে গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জানান, পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। বেলিজের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিলিপ গডফ্রে স্মিথকে এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন একজন আইনজীবী, একজন নেভাল আর্কিটেক্ট এবং জ্যামাইকা ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো থেকে আসা সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া ক্যাপ্টেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ক্যাপ্টেনের শরীরে মারিজুয়ানার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আরেকজন ক্রু সদস্যও রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী বলেন, তদন্ত দল যাত্রী ব্যবস্থাপনা, বোর্ডিং প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন, লাইফ-সেভিং সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এছাড়া ফেরির রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস, জোয়ার-ভাটার প্রভাব, নেভিগেশন ও যোগাযোগ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং কোনো ধরনের পেশাগত অবহেলা বা কর্তব্যহীনতা ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হবে।
দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ফেরিটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারী মালামাল বোঝাই করা হয়েছিল। এছাড়া ‘এমভি বারীমা’ নামের ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলেও ক্রু সদস্যরা সেটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই ধরণের ট্র্যাজেডি এড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের আশা করছে গায়ানা প্রশাসন।

