জিমে ব্যায়াম করার সময় অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না যে কোন আচরণগুলো সঠিক আর কোনটি আপত্তিকর। ভারী ওজন, ঘর্মাক্ত পরিবেশ এবং নানা ধরনের মেশিনের ভিড়ে জিমের নিজস্ব কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিমে ভালো শিষ্টাচার মানে কেবল নিয়ম পালন নয়, বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষক ম্যাথিউ ফরজাগলিয়া বলেন, জিমে অন্যের সময়, জায়গা এবং ব্যবহৃত সরঞ্জামের প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি। ব্যায়ামের পর সরঞ্জাম পরিষ্কার না রাখা বা ওজনগুলো গুছিয়ে না রাখা কেবল অস্বাস্থ্যকরই নয়, বরং এটি অন্যদের জন্য অনিরাপদও হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক আমান্ডা ক্যাটজ জানান, ব্যবহৃত ভারী ওজন বা ডাম্বেল অগোছালো ফেলে রাখলে যারা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলো সরাতে পারেন না, তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়।
ব্যায়ামের সময় বেঞ্চে ঘাম লেগে থাকাটা সাধারণ বিষয়, তবে নিজের ঘাম মুছে ফেলাটা একটি সৌজন্যবোধের পরিচয়। ফরজাগলিয়া বলেন, কেউ চায় না অন্যের ঘামে ভেজা বেঞ্চে শুয়ে ব্যায়াম করতে। আবার যদি কেউ জটিল কোনো সার্কিট ট্রেইনিং করতে চান যেখানে একসঙ্গে ছয়টি মেশিন প্রয়োজন, তবে সেটি জিমে না করে বাড়িতে করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যের ব্যায়ামের ধরন নিয়ে অযাচিত পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জিরার্ডের মতে, অন্যের শরীরের লক্ষ্য বা সক্ষমতা সম্পর্কে না জেনে পরামর্শ দেওয়া ঠিক নয়। ব্যায়ামের সময় উচ্চস্বরে চিৎকার করা বা হেডফোন ছাড়া নিজের পছন্দের গান বাজানো অন্যদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। জিরার্ড বলেন, ব্যায়ামের সময় মানুষ এমনিতেই অস্বস্তিকর ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তাই অন্যদের চিৎকারে তাদের মনোযোগ নষ্ট করা উচিত নয়।
ব্যায়ামের সেটের মাঝে বিশ্রাম নেওয়া স্বাভাবিক, তবে মেশিনে বসে দীর্ঘসময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ইমেইল চেক করা বা ফোনে কথা বলা অনুচিত। ফরজাগলিয়া স্পষ্ট করে বলেন, জিম মূলত প্রশিক্ষণের জায়গা। যদি ফোনে জরুরি কোনো কাজ থাকে, তবে জিমের বাইরে গিয়ে তা সেরে নেওয়া উচিত।

