ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস গাজায় হামলা বন্ধ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে। হামাস একই সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য যুদ্ধবিরতির পথে তার প্রতিশ্রুতিকেই নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তা মেনে চলতে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীকে বাধ্য করতে মার্কিন নেতার ওপর চাপ অব্যাহত রাখা উচিত।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরায়েলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয় এবং হামাস তাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হামাসের একটি ভিন্ন যোগাযোগ চ্যানেল বিদ্যমান রয়েছে এবং তারা শেষ পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি পূর্বপরিকল্পিত বৈঠকে মিলিত হন। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, এই বৈঠকে বোর্ডের প্রধান দূত নিকোলে ম্লাদেনভ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও উপস্থিত ছিলেন। ওই সূত্রের দাবি, আলোচনাটি মূলত ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার সব উপাদান এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে রোববার কায়রো সফরে গিয়ে কুশনার, ম্লাদেনভ এবং ব্লেয়ার হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একই বিষয়ে আলোচনা করেন। বর্তমানে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩,০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে অক্টোবর ২০২৫ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল সেখানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত ১,২৬০ জন নিহত এবং ৪,১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের রূপরেখায় গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে গাজা প্রশাসন কমিটির অধীনে অস্ত্রশস্ত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনের বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অংশ।

