মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যাকারী সাবেক সেনা মনোচিকিৎসক নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন। হেগসেথের ভাষ্যমতে, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি যে কতটা গুরুতর, তা মানুষের বোঝানোর জন্য এই প্রক্রিয়াটি প্রকাশ্যে হওয়া প্রয়োজন। তিনি ডানপন্থী রিয়েল আমেরিকার ভয়েস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানান।
এই ঘটনা রবার্ট টেইটের স্মৃতিতে দুই দশক আগের ইরানের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রায় ২২ বছর পর সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, তার সেই সময়ের বর্ণনা যেন সেই ভয়াবহ নাটকের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ। ২০০৫ সালে গার্ডিয়ানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ইরানে মুহাম্মদ বিজেহ নামক এক সিরিয়াল কিলারের প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর হতে দেখেছিলেন। তেহরান থেকে প্রায় ৩৫ মাইল (৫৬ কিমি) দূরের পাকদাশত শহরে ক্রেনে ঝুলিয়ে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সেই সময় বিজেহকে ফাঁসির আগে ১০০ বেত্রাঘাতের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ১৭ জন শিশু ও তিনজন প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার অভিযোগ ছিল। টেইট জানান, জনসমক্ষে অপরাধীকে বেত্রাঘাত ও পরে ক্রেনে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্যটি ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এক ধরনের নিষ্ঠুর প্রদর্শনী।
এর বিপরীতে, ২০০১ সালে টেইট ইন্ডিয়ানার টেরে হউটে ওকলাহোমা সিটি বোমারু টিমোথি ম্যাকভেইয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছিলেন, যিনি ১৯৯৫ সালে একটি ফেডারেল ভবনের বাইরে ট্রাক বোমা হামলায় ১৬৮ জনকে হত্যা করেছিলেন। তবে সেই মৃত্যুদণ্ড ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং ফেডারেল কারাগারের ভেতরে। টেইটের মতে, এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ইরানি শাসনের অধীনে জীবন সম্পর্কে তার প্রথম ধারণা পাওয়ার একটি মাধ্যম। ইরানি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃত্ববাদী শক্তির প্রদর্শন করা, যা হেগসেথের বর্তমান পরিকল্পনার সাথে অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়ার অবকাশ তৈরি করে। এই পরিকল্পনাটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মূল্যবোধের পার্থক্যের জায়গাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

