অক্সফোর্ডশায়ারের একটি এনএইচএস হাসপাতালে কর্মরত প্যালিয়েটিভ কেয়ার চিকিৎসক ড. র্যাচেল ক্লার্ক দীর্ঘদিন ধরে মুমূর্ষু রোগীদের সাথে কাজ করছেন। তাঁর মতে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ জাগতিক ক্ষমতা, বড় বাড়ি বা দামী গাড়ির মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবে না। ক্লার্কের ভাষায়, “আমার মৃত্যুর আগে করার মতো প্রায় ১,০০,০০০টি কাজ এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে।” জীবনকে গভীরভাবে অর্থবহ করার একমাত্র উপায় হলো মানুষের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, আনন্দ কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী অভিজ্ঞতা, কিন্তু বিস্ময় এবং প্রকৃতির মাঝে জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।
নরফোকের প্যালিয়েটিভ কেয়ার পরামর্শক ড. ডেভিড হল্যান্ডের মতে, জীবনের শেষ সময়ে এসে জমে থাকা কথাগুলো বলা খুব জরুরি। ‘আমি দুঃখিত’, ‘আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম’ বা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’—এই ধরণের কথাগুলো না বলা থাকলে মানুষের মনে আফসোস থেকে যায়। হল্যান্ড নিজে প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণীর মাঝে সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান। তাঁর পরামর্শ, জীবনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকলে ছোট ছোট স্মৃতি তৈরি করা এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো সহজ হয়।
এন্ড-অফ-লাইফ ডুলা রুবি লাভ বলেন, তিনি এমন কোনো মানুষকে দেখেননি যিনি মৃত্যুর আগে বেশি কাজ না করার জন্য আফসোস করেছেন। তাঁর মতে, জীবিকার প্রয়োজনে কাজ করা জরুরি হলেও ক্যারিয়ারে অতিরিক্ত ডুবে না গিয়ে বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে নেওয়া উচিত। তিনি ছোট ছোট মুহূর্ত, যেমন বসন্তে গাছের পাতা গজানো বা এক কাপ ভালো চা উপভোগ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সিঙ্গাপুরের এন্ড-অফ-লাইফ ডুলা তান মিং লি মনে করেন, জীবনকে নিয়ম করে নয়, বরং ইচ্ছাশক্তি দিয়ে বাঁচা উচিত। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যদি আমার শেষ দিন হতো, তবে আমি কীভাবে কাটাতাম?’—এই প্রশ্নটি নিজেকে করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, জীবন কেবল আনন্দের নাম নয়, বরং এমন কিছুর নাম যা মানুষের মনে উদ্দীপনা জাগায়।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে আসা পরিবর্তনগুলোকে ক্লার্ক আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, “আমার কল্পনা হলো, আমি ৯০ বছর বয়সী একজন নারী হব, যে এখনো পৃথিবীর ভালো-মন্দ নিয়ে সোচ্চার, নাতি-নাতনিদের সাথে শ্যাম্পেন উপভোগ করছে এবং ভোর ৫টায় জেদ ধরে পাখি বা ওটার (otter) দেখতে বের হচ্ছে।” ক্লার্ক আরও বলেন, “আমি আমার ৩০-এর কোঠার শুরুর দিকে আছি এবং এখনই নিজের জীবনের পরিকল্পনা শুরু করেছি। আমার কাজ আমাকে শিখিয়েছে যে প্রতিদিন যা আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ উপভোগ করতে হবে।” তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি জীবনের ছোটখাটো বিলাসিতা উপভোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো যাতে শান্তিতে কাটানো যায়, সেজন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত। তান মিং লি মনে করেন, টার্মিনাল বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ‘লিভিং ফিউনারেল’ বা প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে উৎসব করার আয়োজন করা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত, মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক এবং নিজের কাজের প্রতি তৃপ্তিই একটি ভালো মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারে।

