৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর প্রথমবারের মতো একা থাকতে শুরু করেছিলেন এক নারী। জানুয়ারি ২০২৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জীবন এক গভীর শূন্যতায় ডুবে যায়। কিন্তু এই কঠিন সময়ে প্রতিদিনের হাঁটার পথে তিনি লক্ষ্য করেন, পাখিরা তার সঙ্গে অদ্ভুত আচরণ করছে। এটি তার কল্পনা ছিল না; পাখিরা তার খুব কাছাকাছি আসত, পাশাপাশি হাঁটত এবং কিচিরমিচির করত। যখন আশেপাশে অন্য কেউ থাকত না, তখন মনে হতো তারা যেন তাকে সঙ্গ দিচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে তার মনে হয়েছিল, এটি হয়তো মৃত স্বামীর কোনো বার্তা। তবে তিনি জানতেন, এটি অসম্ভব। তার স্বামী মৃত্যুর আগেই জানিয়েছিলেন যে তিনি পরলোকে বিশ্বাস করেন না এবং তিনি কখনো পাখি হয়ে ফিরে আসার মতো মানুষ ছিলেন না। তিনি বরং বিশাল কোনো প্রাণীর মতো ফিরে আসতে পছন্দ করতেন বলে মজা করতেন।
একবার একটি রবিন পাখি তাকে অনেক দূর পর্যন্ত অনুসরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি কৌতুকের ছলে পাখিটিকে বলেছিলেন, "ঠিক আছে, যদি তুমিই হও, তবে আমার বাড়িতে চলো"—আর তখনই পাখিটি উড়ে চলে যায়। তিন মাস পর ফ্রান্সে আল্পসের পাদদেশে এক গ্রামে একটি ছোট ম্যাগপাই পাখিও তার সঙ্গে অদ্ভুত আচরণ করে। সিঁড়িতে বসে পাখিটি ডানা ঝাপটিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছিল, যা তাকে বেশ বিচলিত করে তোলে।
এই ঘটনাগুলো তাকে প্রকৃতির দিকে নতুন করে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি মাশরুমের অদ্ভুত আকৃতি কিংবা রোদে ঝোপঝাড়ের শব্দের মাঝে এক ধরনের নির্ভেজাল আনন্দ খুঁজে পেতে শুরু করেন। একাকী হাঁটার সময় তিনি অনুভব করেন যে, মানুষ যখন প্রিয়জনের সঙ্গে প্রকৃতির মাঝে হাঁটে, তখন সে প্রকৃতির অংশ হয়েও কিছুটা আলাদা থাকে। কিন্তু একা হাঁটার সময় তিনি পুরোপুরি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যান। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, পাখিরা হয়তো তার ভেতরের ক্ষত বা একাকীত্ব অনুভব করতে পেরেছিল।
এখন তার বাগানে নিয়মিত একটি রবিন পাখি আসে, একটি আরবান ফক্স বা শিয়াল তার বাগানে ঘুমায় এবং প্রতিদিন রাত ৮.৩০ মিনিটে একটি ইঁদুর পথ পাড়ি দেয়। আকাশের বুক চিরে সবুজ টিয়ার ঝাঁক তাদের পরিচিত পথে বাড়ি ফেরে। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলো তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, শূন্যতার মধ্যেও অনেক কিছু খুঁজে পাওয়ার আছে। তিনি এখন প্রকৃতির সান্নিধ্যকে এক ধরনের সঙ্গ হিসেবে দেখেন, যেখানে কোনো ভান বা কৃত্রিমতার প্রয়োজন নেই। যদিও আজও বনের পথে হাঁটতে গিয়ে তিনি কল্পনা করেন, তার স্বামী হয়তো তার এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শুনে চোখ পাকিয়ে হাসছেন।

