ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা নতুন একটি বসতি স্থাপনের জন্য তাবু গেড়েছে। উম্ম সাফা গ্রামের দক্ষিণে ওয়াডি জেইতুন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো এই তাবুগুলো স্থাপন করে। যদি এই নতুন আউটপোস্টটি স্থায়ী হয়, তবে উম্ম সাফা গ্রামকে ঘিরে থাকা অবৈধ বসতির সংখ্যা দাঁড়াবে ছয়টিতে। এর পাশাপাশি রামাল্লাহর কাছে বুরকা গ্রামেও আরেকটি আউটপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের পর গত ১,০০০ দিনে পশ্চিম তীরে প্রায় ২০০টি অবৈধ আউটপোস্ট গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম তীর এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ১৫৬টি বসতি এবং ৩৬০টি অবৈধ আউটপোস্টে বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
এই বসতি স্থাপনের পাশাপাশি নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে আট দিন ধরে একটি অবরুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। কুসরার মেয়র আব্দুল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাস আল-আইন পর্বতের একটি আবাসিক বাড়িকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করেছে। ফলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা সেখানে নিয়মিত হামলা এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রামাল্লাহ জেলায় ইসরায়েলি সেনারা আল-মুঘাইয়ির গ্রামে অভিযান চালিয়েছে এবং বাড়িঘরে বিষাক্ত কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এছাড়া বেইত লিকিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন বাড়ির মালিককে নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ ও বাড়ি ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমের উত্তরে জাবা সামরিক চেকপয়েন্টে কঠোর তল্লাশির কারণে শত শত ফিলিস্তিনি দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে থাকেন।
দক্ষিণের হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা ওয়াডি আজহিশে অভিযান চালিয়ে এক পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। একই সময় তাদের গাড়ি ও কাজের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। মাসাফের ইয়াত্তাতে আবাসিক গুহাগুলো ভাঙার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ওয়াদি আল-রাখিমে বসতি স্থাপনকারীরা গবাদি পশু ফসলি জমিতে ছেড়ে দিয়েছে।
বেথলেহেমের পূর্বে ইসরায়েলি দখলদারদের হামলায় জেরুজালেমের সুর বাহির গ্রামের বাসিন্দা ড. মজিদ আলিয়ান দুয়েকাত আহত হয়েছেন। জেরুজালেমের গভর্নর জানান, প্রায় ১০ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী তাকে পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার হাত ভেঙে দিয়েছে এবং তার গাড়ির জানালা ভেঙে ফেলেছে। এছাড়া রামাল্লাহ ও নাবলুসের সংযোগ সড়কে ফিলিস্তিনি যানবাহনে হামলা চালানো হয়েছে। বেইত ইমরিয়া গ্রামেও ঘরবাড়িতে হামলা ও ফিলিস্তিনিদের আটকের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীদের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৬০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ১,৪৩০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা। এই সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় বাড়ি ভাঙার কারণে প্রায় ৩,৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।

