যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমান বাহিনী তাদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে। ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়ে তদন্তের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদিও অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে বাহিনীর গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তবে এখন এটি নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
রোববার অন্তত ১০টি বি-১ বোমারু বিমান ফেয়ারফোর্ড থেকে উড়ে যায়। এর মধ্যে কিছু বিমান মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রোটেশনের অংশ হিসেবে সেখানে পৌঁছেছিল। এই দ্রুত প্রত্যাহার মার্কিন সরকারের কাছে হুমকির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হোম বেসে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। এর জেরে লন্ডনের মধ্যাঞ্চল থেকে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ছয়জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, যাদের পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সাথে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও গত ২৪ ঘণ্টায় উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্য তিন সপ্তাহ আগে পাওয়া সতর্ক সংকেতগুলোরই অংশ ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা বেড়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
লন্ডন থেকে ১০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের সময় মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ওয়াশিংটনকে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড উভচর রেডিনেস গ্রুপ ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রণতরী ও জাহাজগুলোতে মোট ৭,০০০ নাবিক এবং ২,০০০ মেরিন সেনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন থাকতে পারে।

