পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ এবং জিও নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৭৩ বছর বয়সী এই পিটিআই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড ইমরান খানের হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ইসলামাবাদের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সৈয়দ আলী নাসির রিজভী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও দল দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল এবং তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছিল। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের এই নির্দেশ দেন।
এদিকে, ইমরান খানের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মুক্তি পেলে ইমরান খান সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মুখোমুখি অবস্থানে যাবেন না। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আগ্রহ রয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলফিকার বুখারি বলেন, "ধরে নেওয়া যাক, ইমরান খান যদি আগামীকাল মুক্তি পান, তবে তিনি দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।" ইমরান খানকে একজন "উদার মনের মানুষ" হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, "এর অর্থ এই নয় যে আপনি এস্টাবলিশমেন্ট বা সামরিক নেতৃত্বের মুখোমুখি দাঁড়াবেন। দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের কষ্ট ও ক্ষোভকে চেপে যেতে হবে।" উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ।

